Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:00 am

পাকিস্তান সফর বাতিল, টেলিফোনেই চলছে শান্তি আলোচনা: ট্রাম্প

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা এখন টেলিফোনের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, একটি অসম্পূর্ণ চুক্তির জন্য ইসলামাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। 

তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার প্রস্তাবগুলো এখনো ওয়াশিংটনের কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার এই ফোনালাপ এখন একটি সম্ভাব্য কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলছে।

বর্তমানে চলমান এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। যদিও ইরান এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান চাইছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য জমা রেখেছে। 

ট্রাম্প আবারও তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং এটিই তার প্রশাসনের জন্য আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার। মূলত তেহরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে দূরে রাখাই মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের এই টেলিফোনিক কূটনীতি মূলত সময়ক্ষেপণ নাকি প্রকৃত সমাধানের পথ, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। একদিকে তিনি আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন, অন্যদিকে নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রেখেছেন।

ট্রাম্পের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান একটি সম্মানজনক এবং লাভজনক চুক্তিতে সম্মত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন। অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের এসব শর্ত নিয়ে গভীর বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।

১ মে’র সময়সীমার আগে দুই দেশের এই পরোক্ষ ও সরাসরি যোগাযোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকটি বাতিল হয়েছে, তবে টেলিফোনে আলোচনার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোনো পক্ষই এখনো যুদ্ধের দিকে চূড়ান্তভাবে পা বাড়াতে চাইছে না। 

এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ‘চৌকস চুক্তির’ স্বপ্ন এবং ইরানের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি কীভাবে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। বিশ্ববাজার ও তেলের দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এই টেলিফোনিক আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি