Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 02:24 pm

আবহাওয়া মিতালি: বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে চা শিল্প

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ভোর ৫টা ভাড়াউড়া চা বাগানের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসছেন। হাতে ঝুড়ি, মুখে গান- গীতা, রেখা, মিনারা লাইনে দাঁড়িয়ে গেছেন। দুটি পাতা একটি কুঁড়ি- এই মন্ত্রে তারা বাঁচেন, বাঁচে দেশ।

আবহাওয়া অনুকূলে। সময়মতো বৃষ্টি, সহনীয় তাপমাত্রার কারণে এ বছর কুয়াশা ভাঙতেই চা গাছে নতুন পাতার হাসি। তাই মৌলভীবাজারের ৯৩টি ছোট-বড় চা বাগানে বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

চা বোর্ড ও বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার শুধু উৎপাদন নয়, গুণগত মানও ছাড়াবে গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড। গত বছরের খরা ও পাতার সংকটের ক্ষত এবার পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে পুরো চা অঞ্চল।

জেলার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পাহাড়ি ঢাল এখন একটুকরো সবুজ ক্যানভাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি চা গাছে থোকা থোকা কচি পাতা। চলতি মৌসুমের শুরুতেই আগাম বৃষ্টিপাত চা শিল্পে প্রাণ ফিরিয়েছে।

গত বছর এই সময়টায় বাগানগুলোতে ছিল খরার ছাপ। পাতা কম, শ্রমিকের ঝুড়ি খালি। দৈনিক নিরিখ পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে অনেককে।

কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, তোলার মচ্ছবে মেতেছেন হাজারো নারী শ্রমিক।

ভাড়াউড়া চা বাগানের গীতা দেবী বলেন, এ বছর গাছে পাতা আছে। আমরা ৩০-৩৫ কেজি পর্যন্ত তুলতে পারি। গত বছর ১৮-২০ কেজি তুলতেই কষ্ট হতো। পাতা বেশি, মনেও শান্তি।

তিনি একা নন একাধিক শ্রমিক জানালেন, এবার প্রতিদিন ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাতা উত্তোলন হচ্ছে। পাতার ওজন বাড়লে মজুরিও বাড়ে। কারখানাগুলোতেও ২৪ ঘণ্টা উৎপাদনের চাকা ঘুরছে।

প্রকৃতি এবার আমাদের মুখ তুলে চেয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি, ঠিকঠাক রোদ - চায়ের জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না। আশা করছি এবার উৎপাদন ও মান দুই-ই ভালো হবে।

চা বোর্ড ও বাগান মালিকরা বলছেন, আবহাওয়া এভাবে অনুকূলে থাকলে চলতি বছর উৎপাদন রেকর্ড ছাড়াতে পারে। ভালো ফলন ও মানের কারণে রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে শ্রমিকরা বলছেন, পাতা বেশি হলেও মজুরি ও জীবনমানের উন্নতি হলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করবেন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে