শফিকুল ইসলাম: ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, ইতিহাস আর স্বপ্নের মেলবন্ধন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময় আসর।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ, যা আগের বিশ্বকাপের ৬৪ ম্যাচের তুলনায় ৪০টি বেশি। এবারের টুর্নামেন্ট চলবে ৩৯ দিন, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ বিশ্বকাপেও পরিণত করেছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দলের সংখ্যায়। ১৯৯৮ সাল থেকে ব্যবহৃত ৩২ দলের কাঠামো ভেঙে এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। ১২টি গ্রুপে ভাগ হওয়া দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল উঠবে নতুন সংযোজিত ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ। ফলে কোনো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব শুরু হবে ৩২টি দল নিয়ে।
এই সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে নতুন মুখও। কেপ ভার্দে এবং কুরাসাও’র মতো দেশ প্রথমবার বিশ্বকাপের আলোয় আসছে। এটি ফুটবলের বিশ্বায়নের নতুন অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি আলাদা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ফুটবলের ভৌগোলিক সীমানা ভেঙে আরও বেশি জাতিকে এক মঞ্চে আনার এক বৈশ্বিক উৎসব। নতুন দল, নতুন ফরম্যাট, নতুন গল্প– সব মিলিয়ে এটি হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিশ্বকাপ।