Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:45 am

জার্সি পরে নামাজ পড়লে কি নামাজ হবে?

image

ফুটবল বা ক্রিকেট উন্মাদনায় প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক দারুণ ট্রেন্ড। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, খেলার মাঠ বা টিভির সামনে থেকে জার্সি পরেই অনেকে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন নামাজের মুসল্লায়। ঠিক তখনই মনে প্রশ্ন জাগে—প্রিয় দলের এই জার্সি পরে নামাজ পড়া কি আসলেই জায়েজ? নাকি এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে? চলুন, আজ ইসলামের দৃষ্টিতে এর সঠিক ও বাস্তবমুখী সমাধানটি জেনে নেওয়া যাক।

ইসলামে নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি সরাসরি মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে হাজিরা দেওয়া। আর তাই নামাজের জন্য পোশাকের শালীনতা ও পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে বনি-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা (সুন্দর ও শালীন পোশাক) পরিধান করে নাও। (সুরা আরাফ, ৩১)

নামাজের সময় যথাসম্ভব মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য।
চলতি সময়ের জার্সিগুলোর নকশা ও এর ওপর ভিত্তি করে ফুকাহায়ে কেরাম বা ইসলামিক আইনবিদরা বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে ব্যাখ্যা করেছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো জার্সি পরে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, তবে সাধারণ বা মার্জিত পোশাকের তুলনায় এভাবে নামাজ পড়া অনুচিত।

বর্তমান সময়ে অনেক ক্লাবের জার্সিতে বা লোগোতে বাঘ, সিংহ বা অন্য কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকে। ইসলামি শরিয়তে প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরা নিষিদ্ধ। যদি জার্সির ছবি স্পষ্ট হয়, তবে তা পরে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি বা হারামের কাছকাছি। 
যদি জার্সিতে কোনো প্রাণীর ছবি না থেকে কেবল গাছপালা, পাহাড়, ঝরনা বা জ্যামিতিক নকশা থাকে এবং তা অস্পষ্ট হয়, তবে তা পরে নামাজ পড়লে মাকরুহ হবে না।

আজকের দিনে প্রচলিত অনেক খেলাই কেবল বিনোদন নয়, বরং জুয়া, অর্থ ও সময়ের অপচয় এবং নানাবিধ অনৈতিকতার সাথে জড়িয়ে গেছে। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা দোষের কিছু নয়, তবে তা যেন আমাদের ইবাদতের খতিয়ানকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে। নামাজের মতো মহান ইবাদতে দাঁড়ানোর আগে আমাদের পোশাকটি কতটা উপযুক্ত, তা পুনর্বার ভেবে দেখা উচিত। তাই সম্ভব হলে নামাজের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাক বেছে নেওয়াই হবে একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

জা. অর্থনীর্তি/ উমার