Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:23 am

কিভাবে সাজানো হলো এবারের সুইডেন স্কোয়াড

image

সুইডেন জাতীয় ফুটবল দল

ডাকনাম: ব্লোগুল্ট 

কনফেডারেশন: উয়েফা 

কোচ: গ্রাহাম পটার 

ফিফা র‍্যাংকিং: ৩৮ 

কোয়ালিফিকেশন যাত্রা

ইউরোপীয় বাছাই পর্বে শুরুতে কিছুটা কঠিন সময় পার করলেও, নেশনস লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সুইডেন প্লে-অফে খেলার সুযোগ পায়। প্লে-অফ সেমিফাইনালে তারা ইউক্রেনকে এবং ফাইনালে পোল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয়।

খেলার ধরন

বর্তমানে দলটির কৌশল অনেকটা হাইব্রিড ধরনের, যেখানে ৩-৪-২-১ ফরমেশন বেশি প্রাধান্য পায়। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা বজায় রেখে প্রতি-আক্রমণে দ্রুতগতিতে ওঠার ওপর নির্ভর করে তারা। বল পায়ে রেখে টেকনিক্যাল মিডফিল্ড দিয়ে খেলা তৈরি করা দলটির অন্যতম প্রধান শক্তি।

তারকা খেলোয়াড়

দলের আক্রমণ ভাগের দায়িত্বে আছেন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা বেশ কয়েকজন দুর্দান্ত ফুটবলার। তাদের মধ্যে আর্সেনালের তারকা ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিওকেরেস। যিনি বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এবং লিভারপুলের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাকও অন্যতম। এ ছাড়া রক্ষণে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ভিক্টর লিন্ডেলফ (অ্যাস্টন ভিলা) রক্ষণভাগ সামলাচ্ছেন।

উদীয়মান খেলোয়াড়

ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলে যুক্ত করা হয়েছে। টটেনহ্যামের মিডফিল্ডার লুকাস বার্গভ্যাল এবং ব্রাইটনের ইয়াসিন আয়রি উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছেন এবং দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

কোচের কৌশল

গ্রাহাম পটারের অধীনে সুইডেন মূলত নমনীয় ৪-৩-৩ অথবা চিরাচরিত ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে থাকে। রক্ষণভাগে জমাট থাকা এবং বলের পেছনে সময় ব্যয় করে প্রতিপক্ষকে হতাশ করা। মাঝমাঠ থেকে লম্বা পাসের মাধ্যমে দ্রুত আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বল পৌঁছে দেওয়া। কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে গোল করার ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এই দলটি অত্যন্ত দক্ষ।

শক্তি ও দুর্বলতা

শক্তি: শারীরিক উচ্চতা ও শক্তিতে এগিয়ে থাকার কারণে তারা এরিয়াল ডুয়েল এবং সেট-পিসে দারুণ সুবিধা পায়। তবে মাঝমাঠে নিখুঁত পাসের অভাব এবং বল ধরে রাখার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে হিমশিম খায়। বড় দলের বিপক্ষে রক্ষণ জমাট রাখলেও, দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রায়ই সহজ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। দলের ডিফেন্ডাররা অনেক সময় ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দুর্বলতা প্রদর্শন করেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাস

সুইডেন অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলুড়ে দেশ, যারা বিশ্বকাপের মঞ্চে মোট ১৩ বার (২০২৬ আসরসহ) চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। 

স্মরণীয় মুহূর্ত

১৯৫৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তৎকালীন শক্তিশালী ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে।

সংস্কৃতি ও সমর্থক

সুইডিশ ফুটবলের মূল সংস্কৃতি হলো দলীয় শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রম। কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর না করে, সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সুইডেনের সমর্থকরা অত্যন্ত অনুগত এবং সৃজনশীল। তারা মাঠে চমৎকার ‘টিফো’ বা বিশাল ব্যানার প্রদর্শন এবং ড্রাম বাজিয়ে ও ছন্দবদ্ধ গান গেয়ে গ্যালারিতে দারুণ পরিবেশ তৈরি করেন।

মজার তথ্য

১৯০৮ সালের ১২ জুলাই নরওয়ের বিপক্ষে ১১-৩ গোলের বিশাল জয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা শুরু করে।

সম্ভাব্য ফরমেশন: ৪-২-৩-১ বা ৪-৪-২

গ্রুপ বিশ্লেষণ

ফিফা বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হবে সুইডেন। গ্রুপ পর্বের এই কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করতে কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে থাকা দলটি নিজেদের আক্রমণভাগের নৈপুণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবে।

ভবিষ্যদ্বাণী

বড় কোনো টুর্নামেন্টে তারা সাধারণত আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামে, তবে দলবদ্ধতার কারণে তারা বড় দলগুলোর জন্য সব সময়ই একটি কঠিন প্রতিপক্ষ।

উক্তি

‘সুইডেনের জন্য একসঙ্গে’