Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:40 pm

শিপ্রা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ৪ বছর পর মূল আসামি গ্রেপ্তার

image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিপ্রা রানী দাস ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ ৪ বছর পর উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পিবিআই কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী রেল স্টেশন এলাকা থেকে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণী বরাত দিয়ে পিবিআই জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন শিপ্রা রানী দাস। এর তিন দিন পর, ৪ অক্টোবর নবীনপুর এলাকার জলার চরে একটি ফসলি জমি থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা কাপড়ের টুকরো ও শারীরিক অবয়ব দেখে মরদেহটি শিপ্রা রানী দাসের বলে শনাক্ত করেন। এই নৃশংস ঘটনার পর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি শিপ্রা রানী দাসের স্বামী সবিনয় দাস বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি অজ্ঞাতনামা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশের হাত ঘুরে দীর্ঘদিন মামলাটি সম্পূর্ণ 'ক্লু-লেস' বা রহস্যে আবৃত থাকার পর এর তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় পিবিআইয়ের কাছে। পিবিআই ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্তের একপর্যায়ে প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী আসামি কালু বাবুর্চি প্রকাশ কালু সাহা (৫৫) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নিখুঁত তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা কাজলের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেন এবং নোয়াখালীতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে জালে তোলেন।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কাজল শিপ্রা রানী দাসকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। এই জঘন্য অপরাধের সাথে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি