Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 12:11 pm

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ সংকট, রোগীদের ভোগান্তি

image

যশোর প্রতিনিধি: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগীকে সরকারি ওষুধ না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে তা কিনতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরাসহ আশপাশের জেলার রোগীদের অন্যতম ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। এখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী প্রতিনিয়ত ভর্তি থাকেন। গত অর্থবছরে হাসপাতালের ওষুধের চাহিদা ছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা, কিন্তু বরাদ্দ মিলেছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা ওষুধ দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে অতি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, বিভিন্ন ধরনের স্যালাইন ও ইনজেকশনের তীব্র সংকট রয়েছে।

মণিরামপুর থেকে আসা অনিল রায় ও বাঘারপাড়ার শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও নাপা ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ মিলছে না। চিকিৎসকের লিখে দেওয়া সব ইনজেকশন ও দামি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালে এসেও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ওষুধের পাশাপাশি হাসপাতালে খাবার সরবরাহেও বড় সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ২৫০ জনের সরকারি বরাদ্দ থাকলেও রোগী ভর্তি থাকছেন তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ফলে অনেক রোগীকে স্বজনদের এনে দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পী জানান, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওষুধ ও খাদ্যের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত জানান, বর্তমান রোগীর চাহিদা পূরণে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ওষুধ প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ মেলে মাত্র ১২ থেকে ১৩ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইডিসিএল ও স্থানীয়ভাবে ৮ কোটি টাকার বেশি ওষুধ সংগ্রহ করা হলেও বিপুল রোগীর চাপে তা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র ৪ ধরনের ওষুধ মজুত আছে। সংকট নিরসনে নতুন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি