Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 01:08 pm

রহস্যে ঘেরা জিন জাতির অজানাে ইতিহাস

image

গভীর রাতে হুট করে ঘরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, একা ঘরে কারো হেঁটে চলার শব্দ কিংবা হঠাৎ চোখের সামনে দিয়ে কালো অবয়ব ভেসে যাওয়া—এসব অভিজ্ঞতাকে আমরা অনেকেই মনের ভুল বা হ্যালুসিনেশন বলে উড়িয়ে দিই। আবার অনেকে ভয়ে তটস্থ হয়ে ছোটেন কবিরাজের কাছে। কিন্তু বিজ্ঞান যেখানে একে ‘প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি’ বলে ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করছে, ইসলাম সেখানে চৌদ্দশত বছর আগেই আমাদের চোখের আড়ালের এই রহস্যময় সমান্তরাল জগত বা জিন জাতির অস্তিত্ব ও তাদের প্রকারভেদ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আজকের যুগে ভৌতিক সিনেমা বা হরর গল্পের প্রতি মানুষের কৌতূহল চিরন্তন। তবে একজন মুসলিম হিসেবে এই অদৃশ্য জগত সম্পর্কে কাল্পনিক গল্পের চেয়ে কোরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ তথ্য জানা জরুরি। জিনদের বিশ্বাস, কর্ম এবং তাদের বৈচিত্র্যময় প্রকারভেদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মানুষের মতোই জিনদেরও স্বাধীন ইচ্ছা বা ফ্রি উইল দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্ম ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের মাঝেও স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে -

১. মুমিন বা মুসলিম জিন: মানুষের মতো জিনদের মাঝেও একদল সৎ ও ধার্মিক জিন রয়েছেন, যারা আল্লাহর ইবাদত করেন। পবিত্র কুরআনে এসেছে, একদল জিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুখে কুরআন তিলওয়াত শুনে ঈমান এনেছিলেন এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। (সূরা আল-আহকাফ, ২৯)।

২. কাফের বা অবাধ্য জিন: যারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে এবং অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে। হযরত সুলাইমান (আ.)-এর আমলে এই অবাধ্য জিনদের দমনের জন্য শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিবরণ কুরআনে পাওয়া যায়। (সুরা সোয়াদ, ৩৮)।

৩. শয়তান জিন: এরা হলো জিনদের মধ্যকার সেই চরম পাপিষ্ঠ দল, যারা সর্বদা মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ও পাপের পথে প্ররোচিত করার মিশনে নিয়োজিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর এভাবেই আমি মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছি। (সুরা আল-আনআম, আয়াত: ১১২)।

পবিত্র কোররআনে জিন জাতির আদি সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াহীন আগুনের শিখা থেকে। (সুরা আর-রাহমান, ১৫)। এখানে আল-জান্ন শব্দ দিয়ে জিনদের মূল উৎস বা পিতাকে বোঝানো হয়েছে।

তবে হাদিসশাস্ত্রে এই শব্দের আরেকটি চমকপ্রদ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) সাপের বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল-জান্ন শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ তিনি করেছেন শ্বেত সাপ বা সাদা রঙের সাপ। (বুখারি, তাওহীদ পাবলিকেশন, ৩২৯৭)। এটি মূলত জিনের প্রকারভেদ নয়, বরং সাপের একটি বিশেষ রূপ।

অদৃশ্য এই জগতের ক্ষতি বা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের মনগড়া কোনো তাবিজ-কবজ নয়, বরং সুন্নতি আমলের শিক্ষা দিয়েছেন। সকাল-সন্ধ্যার আজকার, আয়াতুল কুরসি এবং ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই এই অদৃশ্য শক্তির অনিষ্ট থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি। জিন জাতিকে নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে, কোরআনের খাঁটি রেফারেন্সের ওপর বিশ্বাস রাখাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

জা. অর্থনীতি/ উমার