Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:44 am

অস্তিত্ব সংকটে পাহাড়ি ছড়া-নদী, থামছেই না দখলকারীদের দৌরাত্ম্য

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দখল, দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বেদখল ও পলি জমে গোপলা নদী, বিলাস নদী ও ভূরভুরিয়া ছড়াসহ অনেক খরস্রোতা জলধারা এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দখলযজ্ঞ চললেও নদী খনন বা জমি উদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মনে।

সরেজমিন দেখা যায়, আশিদ্রোন, ভূনবীর, মির্জাপুর ও সদর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গোপলা নদী বালু-পলিতে ভরাট হয়ে গতি হারিয়েছে। মূল নদীর জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মাছের খামার, বাসাবাড়ি ও রাস্তা। পানির অভাবে হাইল হাওড়ের প্রায় ১১টি বিল ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভানুগাছ রোড, জালিয়া রোড, কালিঘাট রোড ও রামনগর-গাজিপুর এলাকায় রাতের আঁধারে ভূরভুরিয়া ও লাংলিয়া ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে রাস্তাঘাট, বসতভিটা ও ব্রিজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়ার দুই পাড় দখল করে বহুতল ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানিদূষণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছড়া ভরাটের ফলে পাহাড়ি ঢল নামতে না পেরে আশিদ্রোন, উত্তর ভাড়াউড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন ভানুগাছ রোড, জালিয়া রোড দক্ষিণ ও কালিঘাট রোডে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন বলেন, "ছড়া দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভা সীমানা চিহ্নিত করার পর দখলদার ও অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ভূমি অফিসের মাধ্যমে ছড়ার সীমানা নির্ধারণ করে সব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার পর পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, "দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও মামলা চলমান থাকবে। তবে পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি