টানা ১,০০০ দিন পার হয়ে আজ ১০০১ তম দিনে পা রাখলো গাজা যুদ্ধ। ক্যালেন্ডারের পাতায় হাজারটা দিন পেরিয়ে গেলেও গাজার আকাশে কমেনি বোমার গর্জন, থামেনি স্বজন হারানোর কান্না। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসন আজ মানব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও নৃশংস গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।
তুরস্কের গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ-র প্রতিবেদন এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭৩,০৬৬ জন ফিলিস্তিনি। আর যারা বেঁচে আছেন, তাদের জীবন যেন মৃত্যুর চেয়েও কঠিন। বর্তমানে গাজার ২০ লক্ষাধিক মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত।
সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজাবাসীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য এই দখলের পরিমাণ ৭০ শতাংশে উন্নীত করা।
নামেমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও গাজার সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন:
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি হামলা বন্ধ করেনি। মাথার ওপর সারাক্ষণ উড়তে থাকা ড্রোনের কানফাটা শব্দ তাদের নিত্যসঙ্গী।
ধ্বংসস্তূপের ওপর পলিথিনের তাবু কিংবা বোমায় বিধ্বস্ত দালানের কঙ্কালে আশ্রয় নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। খাবার, পানি ও চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগও সেখানে নেই।
কঠোর সামরিক নজরদারির কারণে গাজা থেকে সাধারণ মানুষের বের হওয়া বা ভেতরে ঢোকার পথ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। প্রতিটা মুহূর্ত কাটে পরবর্তী হামলার আতঙ্কে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাজাবাসী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী, কোনো বেসামরিক নাগরিক নয়। এমনকি হামাসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তুলছে তারা। তবে আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই তর্কের আড়ালে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ।
১০০১ তম দিনে এসেও গাজা আজ এক অবরুদ্ধ কারাগার, যেখানে প্রতিটা সকাল শুরু হয় বেঁচে থাকার নতুন এক অনিশ্চিত সংগ্রাম দিয়ে।
জা. অর্থনীতি/ উমার