Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:39 am

২০২৭ সালে আরও ব্যয়বহুল হতে পারে হজ

image

আগামী ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে পবিত্র হজ পালনের খরচ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ কিছু নীতিগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জটিল সমীকরণে হজের সার্বিক ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা মূল্যায়নসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় এই আশঙ্কার কথা উঠে আসে।

গবেষণা ও মূল্যায়ন সভায় হজের খরচ বাড়ার পেছনে মূলত চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:

১. সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য ও সেবামূলক খাতের মূল্যবৃদ্ধি।

২. বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানির (এভিয়েশন ফুয়েল) চড়া দাম।

৩. সৌদি সরকারের নির্ধারিত বিভিন্ন সার্ভিস ফি বা সেবামূল্য বৃদ্ধি।

৪. মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের এই ব্যয় বৃদ্ধি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর আগে ২০১৮ সালে সৌদি সরকার ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) চালু করে এবং ২০২০ সালে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পর বিশ্বজুড়েই হজের খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৭ সালেও সেই একই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন সাধারণ হজযাত্রীরা।

বিশেষ করে যেসব দেশের স্থানীয় মুদ্রা ডলার বা সৌদি রিয়ালের তুলনায় দুর্বল, সেসব দেশের নাগরিকদের ওপর এই খরচের বোঝা বেশি চাপবে। যেমন—ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ কিংবা বাংলাদেশের টাকার অবমূল্যায়ন ও ডলারের ওঠানামা হজের চূড়ান্ত প্যাকেজের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেছে। বিমান ভাড়া কিছুটা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে; যেখানে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে খালি উড়োজাহাজগুলোতে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করা হবে। এর পাশাপাশি কর ও সেবামূল্য পুনর্মূল্যায়নের জন্যও সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

যদিও হজের খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো অঙ্ক ঘোষণা করেনি, তবে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে ঘিরে তারা বিশাল কর্মযজ্ঞ ও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। মক্কায় অনুষ্ঠিত হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশটির মন্ত্রী তওফিক আল রাবিয়াহ এক নতুন ‘সমন্বিত সেবা মডেল’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হজ প্যাকেজগুলোর বর্তমান কাঠামো সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করে মাত্র তিনটি ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হবে। হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত ও খাবারের মান উন্নত করতেই এই সিদ্ধান্ত। আর এই নতুন নিয়মে বর্তমানে চালু থাকা ‘প্যাকেজ ডি’ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৭ সালের হজের চূড়ান্ত খরচ কত হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং সৌদি সরকারের চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর। তবে কূটনৈতিক আলোচনা ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যয়ের এই বাড়তি চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

জা. অর্থনীতি/ উমার