Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 07:14 am

খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার ডাক

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন সপরিবারে নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেহরান। যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর অবশেষে দেশটিতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান। গতকাল রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত বিশাল শোক সমাবেশে সাবেক নেতার কফিনের পাশ থেকেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার প্রকাশ্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সমাবেশ যেন গভীর শোক আর প্রতিশোধের এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে রূপ নেয়।

শনিবারের তুলনায় রবিবারের জানাজায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বহুগুণ বেশি। সমবেত লাখো মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, নিহত নেতার ছবি এবং প্রতিশোধের প্রতীক ‘লাল পতাকা’। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অনেকে কাফনের কাপড় পরে এসেছিলেন, যা তাদের দেশের জন্য শহীদ হওয়ার মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে।

জানাজার মূল পর্ব শুরুর আগে এক কবিতা পাঠ আসরে কবি মোহাম্মদ রাসুলী বলেন, এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের পোশাক। আপনার রক্তের কসম, ট্রাম্পের হত্যা এখন আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে? ট্রাম্পকে হত্যা না করা আমাদের জন্য চরম অপমানের। এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতা তুমুল করতালি ও স্লোগানে সমর্থন জানায়। পুরো চত্বরজুড়ে “কোনো আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়, কেবলই প্রতিশোধ” স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। এমনকি কফিন মঞ্চের এক কোণে ইংরেজিতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল- “কিল ট্রাম্প”।

এই বিষয়ে আরমেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলেন, “আপনারা মানুষকে হত্যা করতে পারেন, কিন্তু আদর্শকে নয়।” অন্যদিকে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেন, “জনগণ তাদের নেতাকে বিদায় জানানোর সময় দুটি স্লোগান দিচ্ছেন: শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং নেতার রক্তের প্রতিশোধ।”

৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানির ইমামতিতে এই মূল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আলী খামেনেইর পাশাপাশি তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজা হয় এখানে। এর মধ্যে ছিলেন তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানী। জানাজায় ছোট্ট নাতনিটির কফিন উপস্থিত সবার চোখেই জল এনে দেয়।

কর্তৃপক্ষ জানান, প্রথম দিনের অনুষ্ঠানেই প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। সোমবার তেহরানে একটি বিশাল শোক মিছিলের পর মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে পবিত্র শহর কোমে। এরপর ইরাকের দুটি পবিত্র শহর ঘুরিয়ে আলী খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জা.অর্থনীতি/এসআই