Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 06:59 am

কোম শহরে পৌঁছালো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মরদেহ

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র নগরী কোম-এ গিয়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই ধর্মীয় নগরীতে তার একটি বিশেষ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ একটি হেলিকপ্টারযোগে খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের শহর কোম-এ নিয়ে আসা হয়। এর আগে, যুদ্ধের প্রথম দিন নিহত হওয়া এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে টানা তিন দিন ধরে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসেন।

এসময় তেহরানের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে শোকাতুর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের কফিন বহনকারী একটি ট্রাক ধীরগতিতে পশ্চিম তেহরানের আজাদি স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই জানাজা ও শোকমিছিলে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, যা ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ঐতিহাসিক জানাজার কথা মনে করিয়ে দেয়। কালো পোশাক পরিহিত লাখ লাখ মানুষ কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সী এক নাতনিও রয়েছে।

জানাজায় অংশ নেওয়া হামিদ নামের এক স্থানীয় নাগরিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভক্তি রুখে দিয়েছেন। আমরা তার অবদানের কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে এসেছি। মারজিয়াহ নামের অপর এক নারী বলেন, আমরা শহীদ নেতাকে জানাতে এসেছি যে তার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা তার প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করছি।

এদিকে, আলী খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তার উত্তরসূরি ও সন্তান মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি বাবার এই বিশাল জানাজা ও শোকমিছিলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি এই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি যুদ্ধবিরতি চলছে এবং বর্তমানে অত্যন্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই হয়তো নতুন নেতা এখনই জনসমক্ষে আসছেন না।

আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে দাফন কার্যের মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।

জা.অর্থনীতি/এসআই