Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:02 pm

দেশের প্রথম মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস স্থাপনের উদ্যোগ

image

ইবি প্রতিনিধি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় ইউরোপ সফর থেকে অর্জিত বৈশ্বিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) 'মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস', 'ডি ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার' এবং আন্তর্জাতিক মানের 'গ্রিন ক্যাম্পাস' গড়ে তোলার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের ইবি সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিন বছর মেয়াদি এই বৈশ্বিক প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তীতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।

এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রকল্প ও বাস্তবায়নের সাথে সরাসরি যুক্ত শিক্ষাবিদ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা হলেন— ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, প্রকল্পের ইবি সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসাইন, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান— এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের মাধ্যমে বহুইন্দ্রিয়ভিত্তিক শিক্ষণ-পদ্ধতির আধুনিকায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক গবেষণার দুয়ার উন্মোচিত হবে। জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ইরাসমাস প্লাসের অধীন 'রিশেপ' প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের তুর্কু ইউনিভার্সিটি ও লাউরিয়া ইউনিভার্সিটি এবং সুইডেনের গ্যাভলে বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেন ইবি উপাচার্যসহ লোকপ্রশাসন বিভাগের ছয়জন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। এই মেগা প্রকল্পে ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশসহ চার দেশের মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

প্রকল্পের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই মহতী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন— “ইউরোপের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সফরের অভিজ্ঞতাকে স্থানীয় বাস্তবতায় প্রয়োগ করতেই এই মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

একই সাথে আমাদের এই প্রাকৃতিকভাবে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসকে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি আদর্শ গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপ দেওয়া হবে।” উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বব্যাপী লব্ধ আধুনিক জ্ঞানকে স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানোই এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও দর্শন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি