Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 04:17 am

ইবির প্রধান ফটকের গ্রাফিতি আজও জুলাইয়ের স্মৃতি বেড়াচ্ছে

image

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রধান ফটকে আঁকা 'জুলাই বিপ্লবের' স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্রগুলো মুছে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভা থেকে একপর্যায়ে ওয়াকআউট (সভা বর্জন) করেছে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। অন্য কিছু ছাত্রসংগঠন শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গতকালও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে প্রথম দফায় মতবিনিময় করা হয়।

সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এস এম সুইট এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে প্রশ্ন তোলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ বা অন্য কোনো স্থায়ী স্থাপনা যদি নির্মাণই করা হয়, তবে জুলাই মাসেই কেন বর্তমান গ্রাফিতি মুছে ফেলতে হবে? জুলাই আমাদের গণআন্দোলনের মাস। এই মাসে এমন উদ্যোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।” এই যুক্তি দিয়ে তিনি সভা বর্জন করেন।

অনুরূপভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “শহীদদের রক্তস্নাত এই জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই মত দিতে পারি না। প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে একতরফাভাবে মেইন গেট রং করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। প্রশাসনের এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সভা থেকে ওয়াকআউট করি। জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষায় আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।” এছাড়া শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া তারা কোনোভাবেই এই গ্রাফিতি মুছতে দেবেন না।

অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনকে সমর্থন দিয়েছে অন্য সংগঠনগুলো। ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে প্রশাসন যেন সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এর আগে অবশ্যই ক্যাম্পাসের দেওয়ালে থাকা ছাত্রলীগের সব স্লোগান বা লেখা মুছে ফেলতে হবে। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতারাও জুলাই স্মৃতি রক্ষার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও প্রস্তাবিত নকশার ডেমো প্রদর্শনের শর্তে এই উদ্যোগের সাথে একমত পোষণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, “গ্রাফিতিগুলো এভাবে সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা জুলাই স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য প্রধান ফটককে কেন্দ্র করে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে এ বিষয়ে প্রক্রিয়াকরণে কিছু বিষয় রয়েছে, তাই কিছুটা সময় লাগবে।”

উল্লেখ্য, মূল ফটকের স্তম্ভে বড় অক্ষরে লেখা 'ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস', একপার্শ্বে 'তুমি রিয়েলিটি মাইনে নাও', আরেক পার্শ্বে 'বারোটা তোমার বেজে গেছে' লেখা দেখা যায়। এছাড়া দেয়ালের বিভিন্ন অংশে— 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, ছাত্রজনতা মুক্তি পাক', 'MUSA Will Come', '২৪-এর রাজাকার ছাত্রলীগ', 'হাসিনা খুনি', 'ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী', 'BAN BSL', 'BAN BAL', 'Hasina Dictator- ১ দফা', 'step down Hasina', 'অভিনেত্রী হাসিনার পদত্যাগ চাই' ইত্যাদি স্লোগান লেখা দেখা যায়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি