Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:32 am

ফুটবল উন্মাদনায় জীবন বিসর্জনের পরিণতি নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

image

ইসলাম ডেস্ক: খেলাধুলা বিনোদনের অংশ হতে পারে, কিন্তু তা যখন অন্ধ উন্মাদনায় রূপ নিয়ে প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন তা সমাজ ও ইমানের জন্য চরম আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায়। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারি, খুনোখুনি ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি এক অনলাইন প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই আত্মঘাতী উন্মাদনার তীব্র নিন্দা জানান এবং মুমিনদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

খেলা নিয়ে মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অন্য দেশের খেলোয়াড়দের জয়-পরাজয় নিয়ে নিজেরা মারামারি করে খুন পর্যন্ত করে ফেলা কোনো ইমানদারের কাজ হতে পারে না। এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলার মতো উন্মাদনা যারা তৈরি করছেন, তারা এর দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি কুষ্টিয়ার এক মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা টেনে বলেন, প্রিয় দল হেরে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের উপহাস সইতে না পেরে এক ব্যক্তি নিজের ছোট ছোট সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে আত্মহত্যা করেছেন। এমন আচরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলাম বিনোদন বা খেলাধুলাকে ঢালাওভাবে নিষেধ করে না। তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সবকিছুরই একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা আছে। তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আনআনের ১৪১ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন,‘তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’

তিনি বলেন, খেলাধুলা বা শরীরচর্চা যদি শারীরিক সুস্থতা ও আনন্দের জন্য শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে করা হয়, তবে তা প্রশংসনীয়। হাদিস অনুযায়ী, শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম। কিন্তু যে খেলাধুলা দুনিয়া বা আখেরাতের কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তা অনতিবিলম্বে পরিহার করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী স্মরণ করিয়ে শায়খ বলেন, একজন মুসলমানের ইসলাম তখনই সুন্দর হয়, যখন সে অহেতুক ও অনর্থক কাজ পরিহার করে। খেলার নামে এই অন্ধ উন্মাদনা ও অনাচার বন্ধ করে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। অনর্থক কাজে সময় ও জীবন নষ্ট না করে সংযমী জীবনযাপন করাই প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।

জা. অর্থনীতি/ উমার