Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:10 am

তীব্র নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে কাঁদছে জামালপুরের মানুষ

image

জামালপুর প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জামালপুরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও নানা স্থাপনা।

এতে নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষ দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্কে। ভাঙ্গন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

যমুনা আর দশানী নদীর উত্তাল স্রোত যেন কেড়ে নিচ্ছে মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন। প্রতিদিন একটু একটু করে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা আর জীবিকার শেষ সম্বল। নদীভাঙনের ভয় এখন জামালপুরের হাজারো পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের যমুনা নদীর মন্নিয়াচর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করেও ভাঙন ঠেকাতে পারছেন না স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করলে ফসলি জমির পাশাপাশি স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মন্নিয়াচরের বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম জানান, দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে ৫০ বছর বয়সী এই চরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে, নদী ভাঙ্গনে এলাকার অনেক মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে।

একই এলাকার আফসার আলী বলেন, বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেও কোন ব্যাবস্থা হয়নি, স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে কিছু জায়গায় রক্ষা হলেও ৪০০ মিটার পাড় ভাঙ্গন ঠেকানো যাচ্ছে না। 

অন্যদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার দশানী নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আইরমারি খানপাড়া গ্রামের কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আইরমারি খান পাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, দশানী নদীর ভাঙ্গনে বসত-ভিটা হারিয়ে ৩টি কন্যা সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

ওই এলাকার মকবুল হোসেন জানান, নদী এখন তার বসতঘরের নিচে, রাতে ঘুমাতে পারেন না ভাঙ্গনের ভয়ে, ভয় হয় কখন নদীতে চলে যায় তার বসতঘরটি।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো নকিবুজ্জামান খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

—জা. অর্থনীতি/এনজে