Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 08:14 am

যে কারণে তাড়াইলে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি

image

রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ): শস্যভাণ্ডার খ্যাত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, অধিক তাপমাত্রা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেতে এবার পাটের চারা গজায়নি। যে কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭০৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
 
শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা পাট জাগ দিতে ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাট নিয়ে কৃষকের নানা ব্যস্ততা থাকলেও মুখে হাসি নেই।

তারা বলছেন, পানির অভাবে পাটের মান খারাপ হয়েছে। আবার জাগ দেওয়াতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। 

তাড়াইল সদর বাজারের পাট ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান বলেন, মান ও রঙের ওপর নির্ভর করে সবচেয়ে ভালোমানের পাট মণপ্রতি ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিন্তু আঁশ মানসম্মত না হওয়ায় সোনালী আঁশের কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। 

পাট চাষিরা বলেন, অধিক তাপমাত্রা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে খেতে পাটের চারা গজাতে পারেনি। এ বছর পানি কিছুটা দেরিতে আসায় আমাদের শ্রমিক খরচ বেশি হয়েছে। আমাদের এখন লাভ নেই। আমরা বেশি লোকসানে রয়েছি।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০৪ হেক্টর জমিতে। আগাম বন্যা ও দেরিতে পানি সরায় আমরা ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করতে পেরেছি। এ পর্যন্ত ৫৪০ হেক্টর জমির পাট কর্তন করা হয়েছে। ফলন গড়ে প্রায় ২.৫ টন/হেক্টর।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা পাট সংগ্রহ ও শুকাতে পারছেন। দাম ভাল থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

 —জা.অর্থনীতি/এনজে