Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:21 am

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কি থাকতো?

image

আজকের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার যুগে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতা যখন ঘরে ঘরে, তখন আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.) দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কী নির্বাচন করতেন?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর খাদ্য নির্বাচন কেবল প্রথাগত ক্ষুধা মেটানোর মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনদর্শনের প্রতিফলন। বর্তমান আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ডায়েট চার্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, রাসুল (সা.) যেসব খাবার পছন্দ করতেন, তার প্রতিটিই মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য অনবদ্য।

মিরাজের রাতে পানীয়র মধ্যে রাসুল (সা.) দুধ নির্বাচন করেছিলেন, যা স্বভাবজাত ও সুষম খাদ্যের প্রতীক। দুধ ও পনির ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের প্রাকৃতিক উৎস। এছাড়া খেজুরের সাথে মাখন বা সুগন্ধি ঘিয়ে ভাজা গমের রুটি ছিল তাঁর প্রিয় আহারের অংশ, যা দ্রুত শক্তি জোগাতে ও পরিপাকতন্ত্র সচল রাখতে ভূমিকা রাখে।

রাসুল (সা.) মিষ্টি ও মধু অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তিনি মধুকে ‘উত্তম ওষুধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন। খেজুরে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার ও আয়রন। তিনি গমের রুটির সাথে খেজুরকে প্রধান উপাদান বলতেন এবং সন্তান প্রসবের পর মাকেও তা খাওয়ার নির্দেশনা দেন। ভিজিয়ে রাখা কিশমিশের পানিও ছিল তাঁর চমৎকার পানীয়।

তরমুজ বা শসার সাথে পাকা খেজুরের সংমিশ্রণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অনন্য। তরমুজ ও শসার আর্দ্রতা এবং খেজুরের পুষ্টিগুণ মিলে দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে। লাউ বা কদু ছিল রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সবজি। রান্না করা ঝোল থেকে তিনি লাউ খুঁজে নিতেন। এছাড়া ‘সিরকা’ (ভিনেগার)-কে তিনি উত্তম সালন হিসেবে প্রশংসা করেছেন, যা হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে। জলপাই ও তার তেলকে তিনি বরকতময় বৃক্ষ থেকে উৎপাদিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গোশতের ঝোলে ভেজানো রুটি দিয়ে তৈরি ‘সারিদ’ এবং মাখন-ঘি-খেজুরে তৈরি ‘হায়স’ ছিল তাঁর পছন্দনীয় খাবার। পাশাপাশি খাসির পায়া, মোরগ, খরগোশের গোশত, মরুভূমির পাখি এবং সামুদ্রিক মাছও তাঁর খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে।

দরাসুল (সা.)-এর সর্বজনবিদিত বাণী অনুযায়ী, ‘কালোজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের নিরাময় রয়েছে’। আধুনিক গবেষণাতেও কালোজিরার উপাদানগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে যেখানে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতার মতো শারীরিক সমস্যা প্রকট হচ্ছে, সেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পছন্দের প্রাকৃতিক ও সুষম খাবারগুলোকে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা কেবল সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াবই এনে দেবে না, বরং একটি নিরোগ ও পুষ্টিকর জীবনধারা গড়তেও সহায়ক হবে।

জা.অর্থনীতি/ ওএফএ