Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 08:48 am

কর্ণফুলীর মোহনায় আটকে যাওয়া কন্টেইনারবাহী জাহাজ উদ্ধার

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে যাওয়ার পথে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আটকে পড়া কন্টেইনার জাহাজ 'সিএনসি ইউরেনাস' উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও এতে সহযোগিতা করে নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড। পরে জাহাজটিকে নিরাপদে "বি" অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো হয়েছে। 

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর সোয়া ২টায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জাহাজ 'এমভি সিএনসি ইউরেনাস' কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে ঢোকার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২ নম্বর লাল বয়ার সাথে ধাক্কা খায়। পরে সেটি রিটেইনিং ওয়ালে গিয়ে আটকে যায়।

চীনের শিকৌ বন্দর থেকে আসা ৯.৫০ মিটার ড্রাফটের এই জাহাজটিতে মোট ১২৮২ টিইইউএস পণ্য এবং মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক রয়েছেন। ২০১৭ সালে নির্মিত মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট এপিএল (বাংলাদেশ)। 

আরও পড়ুন: জেলেদের জালে ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ চলাচল

জরুরি বার্তা পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান এবং সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত মোতায়েন করা হয় বন্দরের সিনিয়র পাইলট, বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট 'কান্ডারী-২', 'কান্ডারী-৪', 'কান্ডারী-৬' ও 'কান্ডারী-১১', বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট 'শিবসা', টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগবোট 'প্রমত্ত'।

নেভিগেশন চ্যানেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও এই অভিযানে যোগ দেন।

উদ্ধারকারী দল চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও অসাধারণ দক্ষতা ও যৌথ সমন্বয় প্রদর্শনের মাধ্যমে রাতভর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যান। জাহাজটিকে মুক্ত করতে ড্রাফট কমানোর লক্ষ্যে সাময়িকভাবে কিছু কন্টেইনার খালাস করার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছিল।

অবশেষে গভীর রাতে 'সিএনসি ইউরেনাস' জাহাজটিকে সফলভাবে উদ্ধারের পর নিরাপদে "ব্রাভো" অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা সম্ভব হয়। পুরো উদ্ধার অভিযান চলাকালীন বন্দর চ্যানেলটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নৌ চলাচলের উপযোগী ছিল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: আটকে গেল বন্দরের ছয় বার্থে অপারেটর নিয়োগ

এই চ্যালেঞ্জিং অভিযানে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং নিষ্ঠার পরিচয় দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সকল পাইলট, টাগ ক্রু, নৌ বিভাগের কর্মী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে থাকে। 

—জা.অর্থনীতি/এনজে