Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 11:39 am

হাজার হাজার মসজিদ থেকে কেন খোলা হচ্ছে মাইক?

image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শব্দ দূষণের অযুহাত তুলে মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক। রাজ্যটিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের একটি পুরনো নির্দেশিকার অযুহাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে আজানের লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে ফেলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপব্যাখ্যা করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আর সেই ধর্মটি যে মুসলমান ধর্ম সেটি বলাই বাহুল্য।  
তবে ভারতের রাজ্যটির প্রশাসনের দাবি, ধর্ম নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে মুসলিম নেতা ও আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথাও মাইক সম্পূর্ণ বন্ধ বা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের কথাই বলা হয়েছে।

দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, পর্যায়ক্রমে মসজিদে কিংবা প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণের অজুহাতে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভারতের রাজ্যেটির নিয়ম অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দের মাত্রা রাখতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে এই বিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় মন্দির বা অন্য স্থাপনার বেলায় এই নিয়ম মানছেন না কেউই।

রাজ্যটির বিরোধী দলগুলো বলছে, আইন ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের এই নিয়ম সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কিন্তু সেটি না মেনে কেবল একটি ধর্মাবলম্বীদেরই টার্গেট বানানো হচ্ছে। 

এদিকে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগসংবলিত লিখিত আবেদন ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এভাবে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও মানসিকভাবে ব্যতিব্যস্ত করা আইন সমর্থন করে না। এখন বিষয়টা আর কতদূর গড়ায় সেটিই দেখার বিষয়।