Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 07:17 am

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য পর্যটন স্পটে বিনামূল্যে প্রবেশ, ৩৬% ছাড়

image

অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা জাতীয় ইতিহাসের সাহসী অংশীদার। তাদের আত্মত্যাগ কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের কারণেই আজকের বাংলাদেশ। শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক ও দায়িত্ব।

‘৩৬ জুলাই’ স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৩৬ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থায় জুলাই যোদ্ধাদের চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্দোলনের শেষ দিকে তাকেসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। জুলাইয়ের আন্দোলনে বিজয় না এলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় বৈষম্যহীন সুযোগ, মানুষের প্রত্যাশা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি কৃতজ্ঞতা ও জাতীয় দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। পর্যটন শিল্পকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আরও জনবান্ধব করার কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পাঁচজন জুলাই শহীদের পরিবারের সদস্য এবং পাঁচজন আহত জুলাই যোদ্ধাকে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম