Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 10:40 am

যখন আল্লাহ বান্দার মনের চাওয়া পূরণ করতে বেশি ভালোবাসেন

image

সবচেয়ে প্রিয় কোনো মানুষের সামনে দাঁড়ালে আমরা কত কথাই না বলতে চাই! মনের ভেতরের জমে থাকা কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া কিংবা গোপন অভিমানগুলো উজাড় করে দিতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অথচ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্রাট, আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সামনে আমরা দৈনিক পাঁচবার দাঁড়াই। কিন্তু আফসোস, সালাম ফিরিয়েই আমরা বড্ড তাড়াহুড়ো করে জায়নামাজ ছেড়ে দিই। আমরা কি জানি, নামাজের ভেতরেই এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ রয়েছে, যখন মহান আল্লাহ বান্দার মনের যেকোনো বৈধ চাওয়া পূরণ করতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? সেটি হলো–নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর ঠিক পূর্বমুহূর্ত।

সালাম ফেরানোর আগে নিজের পছন্দমতো দোয়া করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য ও অবহেলিত সুন্নাহ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে নামাজ পড়তাম (তখন তিনি তাশাহহুদের নিয়ম শেখাতেন)। শেষে বললেন, অতঃপর (তাশাহহুদ ও দরুদের পর) প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো দোয়া বেছে নিয়ে দোয়া করবে। (বুখারি, ৮৩৫)

অনেকেই মনে করেন, নামাজের ভেতরে শুধু নির্দিষ্ট আরবি দোয়াই পড়তে হবে। কিন্তু এই হাদিসটি আমাদের শেখায় যে, তাশাহহুদ ও দরুদ পাঠের পর বান্দা তার ইহকাল ও পরকালের যেকোনো কল্যাণকর বিষয় আল্লাহর কাছে চাইতে পারে। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার পাশাপাশি নিজের মনের আকুতিগুলো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে পেশ করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

ব্যস্ত এই জীবনে আমাদের চাওয়ার শেষ নেই–কারও প্রয়োজন রিজিকের বরকত, কারও মনের শান্তি, আবার কারও বা মা-বাবার সুস্থতা। এসব চাওয়া পূরণের জন্য নামাজের শেষের এই সময়টুকু এক মোক্ষম সুযোগ। তাই আসুন, নামাজের শেষ বৈঠকে তড়িঘড়ি না করে, অন্তত কয়েকটা মিনিট সময় নিয়ে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। সুন্নাহর এই সুন্দর আমলটি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে।

জা.অর্থনীতি/ ওএফএ