নিজস্ব প্রতিবেদক: পাটের উৎপাদন থেকে শিল্পপণ্য—পুরো খাতকে আরও আধুনিক ও বহুমুখী করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত সাতটি প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিল্পখাতের কাছে গবেষণালব্ধ এসব প্রযুক্তি দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজেআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মশালা ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিজেআরআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। সভাপতিত্ব করেন বিজেআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার।
কর্মশালায় উন্মুক্ত করা সাত প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে—কেনাফ ও পাটবীজ মাড়াই যন্ত্র, চরাঞ্চলের জন্য উন্নত শস্য বিন্যাস, আলু-মুগ/কেনাফ-রোপা আমন, বিজেআরআই মেস্তা-৫, হাইব্রিড কম্পোজিট থেকে বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড, মালচিংয়ে ব্যবহারের জন্য পাটের ফেব্রিক, ন্যানোডাইংয়ের মাধ্যমে পাটবস্ত্র রঞ্জিতকরণ এবং জুট-কটন ব্লেন্ডেড ফেব্রিক ভ্যাট ডাই দিয়ে রঞ্জিতকরণের প্রযুক্তি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে পাটের গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া গেলে কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিল্পখাত সমানভাবে উপকৃত হবে।
তিনি পাটভিত্তিক বহুমুখী পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির কার্যকর সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাটখাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুছ ছালাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিজেআরআইয়ের পরিচালক (কারিগরি) ইঞ্জিঃ মোঃ মোসলেম উদ্দিন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুট ফারমিং সিস্টেমস বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ কে এম শাহাদাৎ হোসেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, শুধু পাটের উৎপাদন বাড়ানো নয়, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাটের বহুমুখী পণ্য তৈরি এবং শিল্পে এর ব্যবহার বাড়ানোই এখন বড় সুযোগ। এজন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উদ্যোক্তা, শিল্পখাত ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা ও কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালা শেষে প্রধান অতিথি বিজেআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শনের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আফছার আলী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমানসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
—জা.অর্থনীতি/আরএস