Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 06:24 pm

কারাগারে মারা গেছেন ‘বসনিয়ার কসাই’ রাতকো ম্লাদিচ

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসের হেগের কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন 'বসনিয়ার কসাই' হিসেবে পরিচিত সাবেক বসনীয় সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় প্রধান ভূমিকা রাখার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়।

মৃত্যুর আগে ম্লাদিচের পরিবার তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মুক্তি আবেদন জানালেও হেগ ট্রাইব্যুনাল তা প্রত্যাখ্যান করে।

নব্বইয়ের দশকে যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধের সময় ম্লাদিচ 'আর্মি অব রিপাবলিক অফ স্রপস্কা'-র নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি তৎকালীন যুগোস্লাভ প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ এবং বসনীয় সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা এই বসনীয় যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং বাস্তুচ্যুত হয় ২২ লাখের বেশি মানুষ।

ম্লাদিচের নির্দেশেই বিশ শতকের দীর্ঘতম অবরোধ 'সারায়েভো অবরোধ' পরিচালিত হয়েছিল। তার বাহিনী দীর্ঘ চার বছর ধরে পাহাড়বেষ্টিত বসনিয়ার রাজধানী শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

সবচেয়ে নৃশংস ঘটনাটি ঘটে স্রেব্রেনিৎসায়। সেখানে জাতিসংঘের ঘোষিত 'নিরাপদ অঞ্চলে' ডাচ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতিতেই ম্লাদিচের বাহিনী ৮ হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে গণকবর দেয়। ওই সময় পূর্ব বসনিয়ার এই শহরে হাজার হাজার নারী ও কন্যাশিশু ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হন।

যুদ্ধের পর ম্লাদিচ দীর্ঘ ১৫ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। ধারণা করা হয়, ওই সময় সার্বিয়ার সামরিক বাহিনী তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে তিনি ধরা পড়েন এবং ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ব্যক্তিগত তথ্যের গরমিল প্রসঙ্গে তার ছেলে জানান, দাপ্তরিক নথিতে ম্লাদিচের জন্ম তারিখ ১২ মার্চ ১৯৪২ উল্লেখ থাকলেও তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ছিল ৮ মার্চ ১৯৪৩।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি