আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট এক বিশাল ভূমিধসের পর গঠিত একটি কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় তিব্বত অংশে নিজেদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন।
গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার প্রধান স্থল সীমান্ত 'গিরিয়ং' বন্দর এলাকা কাদা ও পানির এক প্রলয়ঙ্কারী স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছেন।
কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, গত কয়েক ঘণ্টার অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ফলে জমা হওয়া ধ্বংসস্তূপের মাঝে যে কৃত্রিম হ্রদটি তৈরি হয়েছে, তার পানির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পুনরায় ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কারণে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। কাদা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ।
অন্যদিকে তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ৫৫০ জনেরও বেশি।
আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি