তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: পাটের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের দাম আশানুরূপ না হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে সেই হতাশার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে পাটকাঠি। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখন পাটকাঠি শুকানো ও সংরক্ষণের ব্যস্ততা। গ্রামের অলিগলি, পাকা সড়কের পাশে, মাঠ-ঘাট ও বাড়ির আঙিনায় সারি সারি করে পাটকাঠি শুকাতে দেখা যাচ্ছে। আগে অবহেলায় ফেলে রাখা পাটকাঠি এখন যত্ন করে শুকিয়ে মাচা তৈরি করে সংরক্ষণ করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়রা জানান, পাটকাঠি অনেক এলাকায় পাটখড়ি নামেও পরিচিত। একসময় এটি মূলত রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভালো মানের পাটকাঠি দিয়ে ঘরের বেড়া ও ছাউনির কাজও করা হতো। তবে বর্তমানে এর ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েছে। ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাড়াইলে ৭০৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে কৃষকের সোনালি আঁশের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন
তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের পাটচাষি চান্দু ভূঁইয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও পাটকাঠির তেমন চাহিদা ছিল না। এখন দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। ১০০ মোঠা পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটের দাম আশানুরূপ না হলেও পাটকাঠি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
কৃষক আইনুল ইসলাম বলেন, পাটকাঠি রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনির কাজে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
পাটকাঠির ব্যবসায়ী মনসুর আলী ও সামসুর রহমান বলেন, তারা পাঁচ-ছয় বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। বর্তমানে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম—দুটিই বেড়েছে। ফলে কৃষকেরাও পাটকাঠি সংরক্ষণ করে বিক্রির দিকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, উপজেলার সাত ইউনিয়নেই এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। উৎপাদিত পাটের গুণগত মানও ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি