Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 02:44 am

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সাংবাদিকরা হেনস্তা

image

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিমন্ত্রীর সিলেটে পরবর্তী সকল সফর সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ শরিফ জিয়ারত ও মোনাজাত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী মাজার জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল প্রতিমন্ত্রীর। জুমার নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার কথা চিন্তা করে মূলধারার সংবাদকর্মীরা মাজারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আসা বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর বিশৃঙ্খলা ও চরম ভিড়ের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটলে সাংবাদিকরা মাজার প্রাঙ্গণ থেকে কিছুটা বাইরে বের হয়ে আসেন।

এ সময় স্লোগান দিয়ে একদল যুবক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হয়রানি শুরু করে। হেনস্তাকারীদের দাবি ছিল, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য না নিয়ে স্থান ত্যাগ করার সাহস গণমাধ্যমের কীভাবে হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি নাবিল হোসাইন বলেন, নেতাকর্মীদের চাপে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় সাংবাদিকেরা বাইরে এলে যুবকরা তাদের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে সেখানে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে বিচ্ছিন্নভাবে হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়।

স্টার নিউজের সিলেট ব্যুরো চিফ ইয়াহ্ইয়া মারুফ জানান, ভীড়ের কারণে মাজারের ভেতরে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সাংবাদিকেরা বাইরে এলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী চড়াও হন এবং বাজে আচরণ করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সংবাদ সংগ্রহের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সাংবাদিকরা স্থান ত্যাগ করেন। এর প্রতিবাদে প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী সফরসূচির সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি