Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 01:41 pm

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দুই দিন দুপক্ষের সমঝোতা

image

ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা কেটেছে। প্রক্টোরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দফায় দফায় বৈঠকের পর সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল দুই ছাত্র সংগঠন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলীর মধ্যে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। ওই দিন ইবি ছাত্রদলের এক নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এরই জেরে আজ সোমবার বিকেল ৩টায় উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রধান ফটক এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে দুই দল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী যেসব আবাসিক মেস এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণ রয়েছে, সেসব এলাকায় যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে দুটি সংগঠনই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং প্রশাসনকে সহায়তার আশ্বাস দেয়। ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো ধরনের বহিরাগতদের প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সমঝোতা শেষে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার কথা জানান। তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা দাবি করে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে আমরা ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রশাসন দ্বিমুখী নীতি বা দুর্বলতা দেখালে আমরা আমাদের অবস্থানে অটল থাকব। চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও বহিরাগতরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। দলমত নির্বিশেষে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ ও অস্ত্রধারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।”

অন্যদিকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “গত ৫ তারিখের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভয় ছাড়া পড়াশোনা করতে পারে এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকে, সেই লক্ষে কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

ইবি ও মিরপুর সার্কেলের এসপি মাহমুদ বলেন, “উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে আমাদের স্পষ্ট বার্তা এর পর যদি কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান নিশ্চিত করে বলেন, “দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে ছাত্র সংগঠন দুটি সমঝোতা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ক্লাস-পরীক্ষাসহ যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।”

—জা. অর্থনীতি/এলএটি