Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:22 pm

জাকসুর জব ফেয়ারে ৭০০ চাকরির সুযোগ

image

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘JUCSU Job Fair and Career Summit 2026’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আয়োজিত এ জব ফেয়ারে ২৫টির বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ৭০০টির বেশি চাকরির সুযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসংলগ্ন মাঠে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ আয়োজনে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘুরে চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীরা এবং অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের সিভিও জমা দিচ্ছেন।

জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “জাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এই জব ফেয়ারটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করেছে। আমরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছি এবং চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি আয়োজন করতে পারায় আমরা জাকসুকে স্বাগত জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “জাকসু তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি কাজগুলোও সম্পন্ন করার জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা চাই, পরবর্তী জাকসুও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখুক।”

জব ফেয়ার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, “আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জব ফেয়ার অ্যান্ড ক্যারিয়ার সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ২৫টির বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ৭০০টির বেশি চাকরির সুযোগ নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন করেছি।”

মাজহারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জব ফেয়ারে অংশ নিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানছেন এবং নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ধারণা নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।

জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুরো সময়জুড়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাকসুর প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করেছেন।”

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, একাডেমিক সমস্যা ও বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিকর ক্যাম্পাস তৈরির লক্ষ্যেই তারা কাজ করেছেন।

অতীতের ছাত্র সংসদগুলোর প্রসঙ্গ টেনে জিএস বলেন, “অতীতের অনেক ছাত্র সংসদের কার্যক্রমে কখনো কখনো ক্ষমতার চর্চা, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ-বাণিজ্য কিংবা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দেখা গেছে। কিন্তু আমরা শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভালো পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিকর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।”

নিজেদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, সমালোচনাও থাকবে। তবে আমাদের প্রচেষ্টা ও অবদান কতটুকু সফল হয়েছে, তার বিচার শিক্ষার্থীরাই করবেন।”

জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের হাতে আর মাত্র সাত থেকে আট দিন সময় আছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি সেগুলো যেন যতটা সম্ভব বাস্তবায়ন করে যেতে পারি।”

দিনব্যাপী জব ফেয়ারের পাশাপাশি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হবে ‘Road to Corporate—Career Session’। এতে তিনজন করপোরেট স্পিকার শিক্ষার্থীদের করপোরেট ক্যারিয়ার, পেশাগত উন্নয়ন, কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার গ্রোথ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

আয়োজকদের মতে, এটি শুধু চাকরির মেলা নয়; বরং শিক্ষার্থী ও তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য রিক্রুটমেন্ট, নেটওয়ার্কিং, ক্যারিয়ার লার্নিং এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজারের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি