Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:07 am

সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব

image

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাতিরই একটি নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে। তবে নিজেদের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে লালন ও ধারণ না করার কারণে সমাজে অপসংস্কৃতি ভর করেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাত-এ রাসুল ও কাওয়ালি সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। অপসংস্কৃতির বিষয়টিকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই পারে একটি জাতিকে সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।

জামায়াত আমির বলেন, অপসংস্কৃতিকে শুধু মুখের বক্তব্য বা প্রতিবাদ দিয়ে ঠেকানো যাবে না, বরং সুস্থ তামাদ্দুন ও সংস্কৃতির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সমাজে পারস্পরিক মূল্যবোধের অভাব দেখা দিচ্ছে। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা ও সঠিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, একটি রাষ্ট্র নির্বাচন কিংবা গণবিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই রাষ্ট্রের মানুষ যদি ওই আদর্শকে ধারণ, লালন ও চর্চা করতে না পারে এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যক্রমে তা ধারণ ও বহন করতে না পারে, তাহলে একটি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর সেই বিপ্লব ধরে রাখা যায় না; প্রতিবিপ্লব হয়।

জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই। এ ধরনের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সে জন্য আমাদের বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা অন্যতম।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’–এর উপদেষ্টা মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘১৩৭ থেকে ১৪৭ জন শিশু জীবন দিয়েছে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। আমরা শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক উন্মেষ সৃষ্টির জন্য যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি, তা বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব এবং সর্বশেষে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।’

—জা.অর্থনীতি/আরএস