ফেনী প্রতিনিধি: দেশে আর যেন কোনো অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, "বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর রক্তের হোলিখেলা চালিয়েছিল, যার কারণে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ও বিভীষিকাময় জীবন কাটাতে হয়েছে।"
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার ফরহাদনগর ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও বীর শহীদ পরিবারের মাঝে উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শহীদ হারুনুর রশিদের পরিবারের জন্য নির্মিত নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর এবং স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী আরও বলেন, "বিএনপি সবসময় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় রাজনীতি করে। বিগত শাসনের পৈশাচিক নির্যাতনে গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোতে আজও স্বজন হারানোর কষ্ট তাড়া করে ফেরে। পুলিশের গুলিতে নিহত হারুনের মতো কর্মীরা কোনো মেঘা প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ করতে যায়নি, তারা একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল।"
উল্লেখ্য, নিহত যুবদল নেতা হারুনের পরিবারের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর উদ্যোগে এ সুবিশাল ঘরটি তৈরি করে দেওয়া হয়। মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে আবেগাপ্লুত হারুনের স্ত্রী জোহরা বেগম বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে শহীদ যুবদল নেতা হারুনের কবর জিয়ারত এবং নবনির্মিত ঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর বিকালে এক পৃথক কর্মসূচিতে যোগ দিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি, যেখানে আগুনে ঘরপোড়া অপর একটি অসহায় পরিবারকে দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি