স্পোর্টস ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। এর আগেই শুরু হচ্ছে ফুটবল ইভেন্ট। যেখানে প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া। শক্তি-সামর্থ কিংবা অতীত ইতিহাস সবকিছুতেই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে কোরিয়ানরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক। আর অনলাইনে দেখা যাবে স্পোর্টসজিফাই অ্যাপে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইটা অসম। কারণ সবদিক থেকেই টাইগ্রেসদের চেয়ে এগিয়ে কোরিয়ানরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ১১তম। বিপরীতে বাংলাদেশ আছে র্যাঙ্কিংয়ের ১০৭তম স্থানে। দুই দলের র্যাঙ্কিং পার্থক্য ৯৬ ধাপ।
শুধু র্যাঙ্কিং নয়, মাঠের খেলায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়েই তারা। চলতি বছরই এশিয়ান কাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া। জয় পেয়েছে ৫-০ গোলের ব্যবধানে। সেই ম্যাচে মাঠের খেলায়ও পার্থক্য দেখা গেছে দুই দলের। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসেরও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া।
সবমিলিয়ে এক অসম লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারও অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে চান না। ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে খেলাটাকে উপভোগ করতে চান তিনি।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেছেন, ‘আমাদের বাস্তবমুখী হতে হবে। আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া জরুরি। আমাদের মূল লক্ষ্য দলের মর্যাদা (ক্রেডিবিলিটি) ধরে রাখা। আমরা চাই মেয়েরা খেলাটি পুরোপুরি উপভোগ করুক।’
গত এশিয়ান কাপে ৫-০ গোলে হারের সেই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ম্যাচে ভালো করার কথা জানালেন বাটলার। বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ বলেন, ‘গত এশিয়ান কাপে আমরা তাদের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। সেবার আমরা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলাম এবং একদমই ভালো খেলতে পারিনি। তবে সেই বড় হারটি আমাদের তরুণ মেয়েদের জন্য অনেক বড় একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।’
অসম লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা হয়ত অলিক স্বপ্ন। তবে ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেওয়াই হবে ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
—জা.অর্থনীতি/আরএস