Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:11 pm

হুথিদের মোকাবেলায় সৌদিকে সাহায্য করবে ইসরায়েল

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল ও সৌদি আরব হুথি সামরিক হুমকি মোকাবেলায় গোপন আলোচনা করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে। মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়ালা ও জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। তেলের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় ড্রোন হামলায় প্রধান পাইপলাইনে আংশিক বিঘ্ন ঘটেছে। ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের কাছে একটি মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী ভবনে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। 

এ ছাড়া লোহিত সাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে তারা। বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে। সূত্রগুলো এটাকে সৌদি আরবের ওপর ‘অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ’ বলে বর্ণনা করেছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, একটি বিশেষ শঙ্কা কাজ করছে। সেটা হলো— যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ও হুথিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশকে একা হুমকির মুখে পড়তে হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতেই সেন্টকমের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা আগেই দেখিয়েছে। ইরানি বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মার্কিনিদের তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করেছে তারা। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সৌদি আরবের সহায়তার অনুরোধ মূলত গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে। হুথিদের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের পরিকল্পনা শনাক্ত করতে এই তথ্য দরকার।

এদিকে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সৌদি আরব ব্রিটেনের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে হুথিদের হটানো এবং তেল অবকাঠামো রক্ষায় সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে রাজি হয়েছেন, তবে অতিরিক্ত কোনো সহায়তার প্রতিশ্রুতি এখনও দেননি।

এর মধ্যে আরেকটি সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির সুযোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ এবং ইসরায়েল থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিষয়টি ট্রাম্পের সামনে তোলা হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এটাকে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সঙ্গে জুড়ে দেন। সৌদি আরব চায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান হলে তারপর ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে। সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলেও দুই দেশের কিছু সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা মাথায় রেখে শিগগির একটি কূটনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


—জা. অর্থনীতি/এএইচএ