জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নবনির্মিত ৩ ছাত্রী হল—বেগম রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা হল ও বীরপ্রতিক তারামন বিবি হলের সামনে এখনো নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্থায়ী নিরাপত্তাপ্রাচীর।
হলগুলোর উদ্বোধনের প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তার জন্য দেওয়া টিনের বেড়াটিও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি হলের সামনের অংশে স্থায়ী সীমানাপ্রাচীরের পরিবর্তে টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে বেড়াটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও টিন ভেঙে গেছে, কোথাও মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবার বিভিন্ন স্থানে বেড়ার নিচ ও পাশের অংশও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হলগুলোর সামনের অংশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়েই চলছে পাঠদান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বেগম রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা হল ও বীরপ্রতিক তারামন বিবি হলের নির্মাণ নকশায় হলগুলোর সামনে কোনো নিরাপত্তাপ্রাচীর রাখা হয়নি। তবে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রায় ৩ বছরেও স্থায়ী নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মহনা ইসলাম বৈশাখী বলেন, হল চালুর প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো একটি নির্দিষ্ট, মজবুত ও নিরাপদ বাউন্ডারি ও গেট পাইনি। বর্তমানে থাকা অস্থায়ী টিনের বেড়া যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমানা না থাকায় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে, যা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
যশোরে আমনের উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি হলের সৌন্দর্য ও পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত স্থায়ী ও নিরাপদ বাউন্ডারি নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লাইট, সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মীদের তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ টিনের বেড়ার পরিবর্তে দ্রুত স্থায়ী নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমানে যেসব স্থানে বেড়া ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানান এবং পরে কথা বলার কথা বলেন।
তরুণীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে আটক ৩
পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি অনুষ্ঠানের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তা বর্ধিতকরণের কাজ শেষ হলে এরপর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফলে স্থায়ী নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও, কবে নাগাদ কাজটি শুরু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।
নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের বেড়াগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে ৩টি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
—জা.অর্থনীতি/এনজে