Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:26 am

ধানক্ষেতে কীটনাশকের পরিবর্তে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি

image

রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আমন ধানের ক্ষেতে পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে এখন চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি।

জমিতে গাছের ডাল, খুঁটি, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চার ডাল পোতা হয়। সেগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার এ পদ্ধতিকেই পার্চিং বলা হয়। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমনের ক্ষেতে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬টি করে ডাল বা কঞ্চি পুতে দিয়ে ক্ষতিকর পোকা দমন করছেন আমন চাষিরা। 

সিংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্চিং পদ্ধতিটি পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক। কারণ এর মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার ও ফসলের উৎপাদন খরচ কম। বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পোকার বংশবিস্তার কমানো যায়। এই পদ্ধতির আরও একটি সুবিধা হলো পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। পার্চিং পদ্ধতিটি বিশেষত পাখিদের জন্য। কারণ পার্চিংয়ে বসে দোল খেতে খেতে পাখিরা মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপা পোকার মথ, শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুঁড় লেদা পোকা, শুঁড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শুঁড় ঘাস ফড়িং, উড়চুঙ্গা ধরে খায়।

সোনালি ধানে হেমন্তের আগমনী বার্তা, কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্ন

সাধারণত, জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই রোপা-আমনের ফসলি জমিতে বাদামি ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা এবং চুঙ্গি-মাজরাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এতদিন কৃষকরা এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছিলেন। এখন পোকা দমনে প্রাকৃতিক পার্চিং পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক চাষি হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান, আল আমিন,  সুশান্ত কুমার, মাহফুজুর রহমান, শাহিন আলম, মাহবুবুর রহমানসহ আরও অনেকে বলেন, আমরা এলাকার কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করি। এ পদ্ধতিতে ফসলি জমিতে পোতা ডালগুলোর ওপর পাখি বসে ফসলি জমির ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলার ফলে আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। এতে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

তবে সব ধরনের পাখি পার্চিংয়ে বসে না। মূলত ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল, সাত ভায়রা- এসব পাখি পার্চিংয়ে বসে পোকা ধরে খায় বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর, হাইব্রিড ৫৪০, উফশী ৭ হাজার ২৮০, স্থানীয় ৩ হেক্টর। আবাদ হয়েছে হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ ও স্থানীয় ৩ হেক্টর, মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর। 

চাহিদার তুলনায় সারের মজুত প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য অত্যন্ত কম ব্যয়হীন এবং পরিবেশবান্ধব। এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উপজেলার কৃষকদের মাঝে। অনেক কৃষক আমন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

তিনি আরও বলেন, একটি ফিঙে পাখি দিনে কমপক্ষে ৩০টি করে মাজরা পোকার মথ, ডিম ও পুত্তলি খেয়ে থাকে। ফসল রোপণের পরপরই পার্চিং স্থাপন করতে হয়। 

—জা. অর্থনীতি/এনজে