Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 03:33 am

ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষকের এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ

image

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও কাগজপত্রে কারসাজি করে অবৈধভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেল নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, বিদ্যালয় পরিচালন পর্ষদের বৈধ রেজুলেশন ব্যতিরেকেই তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ ফেরত আনা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়ে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দীন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান কবির ১৯৯৫ সালে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৯৭ সালে এমপিওভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১ জুন তিনি বিএড স্কেল গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, শাহজাহান কবির তার প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেল কোড বসান। এর মাধ্যমে তিনি বিধিসম্মত সময়ের পূর্বেই ২০০৫ সাল থেকে টাইম স্কেল এবং পরবর্তীতে উচ্চতর স্কেলের আর্থিক সুবিধা ভোগ করে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেন।

এমপিও জালিয়াতির এই অনুসন্ধানের মধ্যেই তাকে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটির দুজন সদস্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, শাহজাহান কবিরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে তারা অবগত নন এবং কোনো রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতি বা বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়া কীভাবে একজন সহকারী শিক্ষককে এই পদে আসীন করা হলো, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

তবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু জানান, "অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে; অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "অভিযোগটি পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি