Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 11:23 pm

ইলিশের বাজারে স্বস্তির হাওয়া

image

আরিফ হোসেন, বরিশাল: বরিশালের প্রধান ইলিশের মোকাম পোর্ট রোডে গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের দামও কিছুটা কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

গতকাল সোমবার নগরীর পোর্ট রোডের প্রধান ইলিশের মোকাম ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোকামগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক বেশি আসছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে দামও। ফলে আগের তুলনায় কম দামে ইলিশ কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

পোর্ট রোড বাজারে মাছ কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, এক সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন একই আকারের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। দাম কমায় তিনি দুই কেজি ইলিশ কিনেছেন বলে জানান। নগরীর বাংলাবাজারে মাছ কিনতে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আজ একই আকারের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহে চারটি ইলিশে এক কেজি হয়— এমন মাছ ১২ হাজার টাকা মণ দরে কিনেছেন। বর্তমানে একই আকারের মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে কিনছেন। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে কিনছেন, যা আগে ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জহির শিকদার বলেন, গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে প্রায় ৭৫ মণ ইলিশ এসেছিল। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৬০ মণ ইলিশ আসছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে।

তিনি জানান, সাত দিন আগে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। একইভাবে ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণপ্রতি দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৯ হাজার টাকা থেকে কমে ৮০ হাজার, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও ছোট আকারের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৫৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণপ্রতি দাম ৪২ হাজার টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। এর চেয়েও ছোট আকারের ইলিশের দাম ৩২ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা মণ।

জহির শিকদার বলেন, গত বছর ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়েছিল। এবার জেলে ও ব্যবসায়ীরা ৩০ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এখনও ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে এবং প্রতি কেজির দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

হিজলার জেলে আলম বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে ইলিশের সংকট ছিল। তবে গত চার-পাঁচ দিন ধরে জালে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। এখনও ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। এ কারণে অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে বরিশালে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় মোকামগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ ইলিশ যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৈঠক চলছে। সেখানে ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হবে। ইলিশের পেটে ডিম আসার পরই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।