Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 10:33 pm

নৌকানির্ভর সিংপুরে ফিরছে সড়কপথ

image

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১ নম্বর সিংপুর ইউনিয়ন হাওড়বেষ্টিত একটি জনপদ। বর্ষা মৌসুমে হাওড়ের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ তলিয়ে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। তবে এখন পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে জেগে উঠছে সড়কগুলো। কোথাও রাস্তা শুকিয়ে গেছে, আবার কোথাও রয়েছে হালকা পানি। ফলে সড়কপথে মানুষের চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর আষাঢ় মাস থেকে হাওড়ে পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে সিংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এ অবস্থা কার্তিক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বর্ষার কয়েক মাস নৌকায় চলাচলই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই ব্যাহত হয় না, এর প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, বাজার করা, চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় বাসিন্দাদের।

 

হাওড়বেষ্টিত ও যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্থানীয় বাজারব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে। সিংপুরে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক বাজার বসে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে নিকলী উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকা থেকে নৌপথে পণ্য নিয়ে বিক্রেতাদের অনেকেই সেখানে আসতে অনাগ্রহী থাকেন। ফলে স্থানীয় বাজারের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় তাদের।


তবে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মানিয়ে নিয়েছেন সিংপুরের মানুষ। বর্ষায় নৌকা তাদের চলাচলের পাশাপাশি জীবিকারও একটি মাধ্যম। কেউ নৌকায় যাত্রী পারাপার করে আয় করেন, কেউ হাওড়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার পানি কমে গেলে হাওড়ের জমি চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত হয়। তখন কৃষিকাজে যুক্ত হন অনেকে।

এখন হাওড়ের পানি ধীরে ধীরে কমছে। কয়েক মাস পানির নিচে থাকা সড়কগুলোও একে একে দৃশ্যমান হচ্ছে। কোথাও শুকিয়ে যাওয়া রাস্তায় আবার মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সড়কপথে যোগাযোগ আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিংপুরের মানুষের জীবন তাই হাওড়ের পানির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্ষায় নৌকা, আর পানি নেমে গেলে সড়ক ও কৃষিকাজ—প্রকৃতির এই চক্রের সঙ্গেই বছরের পর বছর জীবন ও জীবিকা চালিয়ে আসছেন তারা।