Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:49 am

সোহরাওয়ার্দীতে রোগীর প্রতিটি পদক্ষেপে কেন এই নরকযন্ত্রণা?

image

অনলাইন ডেস্ক: একজন সংকটাপন্ন রোগীর জন্য আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র মানেই জীবন বাঁচানোর শেষ আশা। অথচ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই আইসিইউর জন্যই প্রতিদিন চলছে দীর্ঘ অপেক্ষা।

১ হাজার ৩৫০ শয্যার এই বিশাল হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে মাত্র ২০টি। অথচ প্রতিদিন গড়ে আবেদন জমা পড়ছে ৪০টিরও বেশি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বেড রয়েছে অর্ধেকেরও কম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট।

হাসপাতালের করিডোরে প্রতিদিন জমে ওঠে রোগী আর স্বজনদের ভিড়। কারো চোখে উদ্বেগ, কারো মুখে একটাই প্রশ্ন- কখন মিলবে একটি আইসিইউ বেড?

জরুরি চিকিৎসায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অপেক্ষাই যেন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। পরিস্থিতি এমন যে, কোনো বর্তমান রোগী সুস্থ হয়ে আইসিইউ থেকে না বের হওয়া পর্যন্ত নতুন কারো সুযোগ মিলছে না। হাসপাতালে আসা স্বজনদের কণ্ঠেও ঝরছে সেই অসহায়ত্ব। তারা জানান, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও আবেদন করার পর কবে বেড পাওয়া যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা।

আইসিইউর পাশাপাশি হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি এইচডিইউ বা হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট রয়েছে। যেসব রোগীর অবস্থা গুরুতর, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউর প্রয়োজন নেই, তাদের চিকিৎসায় এই ইউনিট ব্যবহৃত হয়।

তবে এতে মূল সংকট মিটছে না। কারণ কেবল শয্যা থাকলেই আইসিইউ পরিচালনা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ পর্যাপ্ত জনবল।

সংকট কেবল আইসিইউতে সীমাবদ্ধ নেই, হাসপাতালের বহির্বিভাগেও চোখে পড়ে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসা রোগীদের টিকিট কাটা থেকে শুরু করে ডাক্তারের দরজায় দাঁড়ানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং ওষুধ সংগ্রহ- প্রতিটি ধাপেই পার হতে হয় দীর্ঘ লাইন।

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের দিনের বড় একটি সময় কেটে যাচ্ছে এই লাইনেই। একদিকে যেমন রোগীদের কষ্ট বাড়ছে, অন্যদিকে সীমিত জনবল নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

সার্বিক বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা জানান, লোকবল সংকটের কারণে বিদ্যমান আইসিইউ সেবা চালু রাখতেই তাদের কঠিন পরিস্থিতি পার করতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জায়গা না থাকায় এই মুহূর্তে নতুন কোনো আইসিইউ বেড চালু করার পরিকল্পনা তাদের নেই। আপাতত সীমিত জনবল দিয়েই সেবা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শয্যা, অন্যদিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের অভাব- সব মিলিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি