Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 05:09 pm

এলএনজি আমদানিতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ছেই

image

অনলাইন ডেস্ক: গ্যাসের সংকট মেটাতে এলএনজি আমদানি- কিন্তু সেই এলএনজিই এখন সরকারের জন্য তৈরি করছে হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন সংকট। কম দামে বিক্রি, বেশি দামে কেনা- আর দুই দামের এই বিশাল ব্যবধান মেটাতে বাড়ছে রাষ্ট্রের ভর্তুকি। প্রশ্ন উঠছে, গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশ কি ঢুকে পড়ছে এলএনজি ভর্তুকির এক ভয়ংকর ফাঁদে? 

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকির ফাঁদে সরকার।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতার ও কুয়েত থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে সরকারকে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অবাক করার মতো বিষয় হলো- অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গেছে পুরো বরাদ্দ।

এই তিন মাসে ৩০ কার্গো এলএনজি কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসেই গত অর্থবছরের পুরো এলএনজি ভর্তুকির ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয়ে গেছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১৩ কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভর্তুকি ছিল ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর এবার পুরো অর্থবছরে ১১৫ কার্গো আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি শুরুর পর আট অর্থবছরে এ খাতে মোট ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। অথচ বর্তমান গতিতে ব্যয় চললে শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ভর্তুকি ৪১ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে ভর্তুকির বরাদ্দ বাড়িয়ে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। এমনকি বিকল্প খাত বা বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি থেকে অর্থ সরানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

অর্থাৎ, এলএনজি কিনে শুধু গ্যাসের সংকটই মেটানো যাচ্ছে না- বরং বাড়ছে আমদানি ব্যয়, ভর্তুকির চাপ এবং অর্থনীতির ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, পুরোনো ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো, দ্রুত অফশোর অনুসন্ধান এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন।

কারণ, আজ এলএনজির বিল মেটাতে যে হাজার হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে, সেই বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে দেশের অর্থনীতিকেই।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি