Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 11:30 am

দক্ষিণ ঢাকার ১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প

image

অনলাইন ডেস্ক: রাস্তা আছে, কিন্তু চলাচলের উপায় নেই; নর্দমা আছে, তবু জলাবদ্ধতার ভোগান্তি-দক্ষিণ ঢাকার নতুন ১৮ ওয়ার্ডের এই চিত্র বদলাতে এবার দক্ষিণ সিটির সড়ক-নর্দমা উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্যোগ। 

ঢাকার দক্ষিণ অংশে সড়ক, নর্দমা আর যানজটের সংকট কাটাতে এবার বড় উদ্যোগ।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক-নর্দমা উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

দেড় দশক আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ করে শ্যামপুর, মাতুয়াইল, ডেমরা, দনিয়া, সারুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মান্ডা ইউনিয়নকে দক্ষিণ সিটিতে যুক্ত করা হয়। পরে এগুলোকে ১৮টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনাও।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে সরকারের অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রকল্পটি।

এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ১০৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে ৪৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ১০৩ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর ৪ হাজার ৪৯৯টি সড়কবাতি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজে খরচ হবে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

বর্তমানে এসব ওয়ার্ডে ৩৬০ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার কাঁচা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা রয়েছে। এর আগে সংযুক্ত হওয়ার পর ২৪১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রাস্তা, ২৩২ দশমিক ৮২ কিলোমিটার নর্দমা, ১১ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন এবং ২৬৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার সড়কে বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য-যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানচলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং পথচারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ডিসেম্বরে মূল্যায়ন কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে একনেকের জন্য সুপারিশ করে।

বুধবার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ৭৮৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ ঢাকার নতুন ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্টরা।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি