বিনোদন ডেস্ক: ঠিক নিরানব্বই বছর আগের এক দিনে সিলভার স্ক্রিনের দুনিয়া চিরকালের মতো বদলে গিয়েছিল। হলিউডের ইতিহাসে এমন এক বিপ্লব ঘটেছিল, যা নীরব চলচ্চিত্রের যুগকে পেছনে ফেলে সিনেমার পর্দায় নিয়ে এসেছিল জীবন্ত কণ্ঠস্বর। আর এই রূপান্তরের পেছনের জাদুকরী ছবির নাম— ‘দ্য জ্যাজ সিঙ্গার’!
১৯২৭ সালের ৬ অক্টোবর নিউইয়র্ক শহরের ওয়ার্নার ব্রাদার্স থিয়েটারে বসে দর্শকরা সাক্ষী হয়েছিলেন এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের। পরিচালক অ্যালান ক্রসল্যান্ড পরিচালিত এবং আল জোলসন অভিনীত নব্বই মিনিটের এই ছবিটিকে বলা হতো ‘পার্ট-টকিয়ে’।
আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত নীরব চলচ্চিত্রের গল্প বলার মাধ্যমের সাথে সিংক্রোনাইজ গান, মিউজিক, সাউন্ড এফেক্ট এবং সংক্ষিপ্ত কিছু সংলাপের এক অভাবনীয় মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল এই সিনেমাটি।
তবে কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এই চমক? এই সিনেমার মূলে ছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিখ্যাত ‘ভিটাফোন সাউন্ড-অন-ডিস্ক’ সিস্টেম। অর্থাৎ, ফিল্ম স্ট্রিপে সরাসরি সাউন্ড রেকর্ড না করে, প্রজেক্ট করা সিনেমার সাথে নিখুঁতভাবে সিঙ্ক করা ফোনোগ্রাফ রেকর্ড ব্যবহার করা হতো।
অনেকেই হয়তো ভাবেন এটিই প্রথম সাউন্ড সিনেমা। তবে টেকনিক্যালি কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ, এর আগে ১৯২৬ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্সেরই ‘ডন জুয়ান’ ছবিতে মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড ও সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। আসল ব্রেকথ্রু আসে ‘দ্য জ্যাজ সিঙ্গার’-এর মাধ্যমে। কারণ দর্শকরা প্রথমবার বড় পর্দার কোনো তারকার মুখ থেকে নিখুঁত সিঙ্ক্রোনাইজেশনে কথা ও গান শুনতে পেয়ে পুরোপুরি মুগ্ধ হয়ে যান!
—জা. অর্থনীতি/এআর/আরএস