Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:37 am

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থানে নতুন সমীকরণ

image

স্পোর্টস ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী চক্র থেকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলা ১২টি দেশই এই প্রতিযোগিতায় জায়গা পেতে পারে। বর্তমানে ডব্লিউটিসিতে অংশ নেয় ৯টি দল।

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান এখনো ডব্লিউটিসির বাইরে। পরবর্তী চক্রে এই তিন দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাই ১২ দলের কাঠামোর অন্যতম কারণ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গও জানিয়েছেন, পরবর্তী চক্রে ১২ দলের ফরম্যাট কার্যকর হতে পারে। টেস্ট খেলুড়ে সব দেশকে ডব্লিউটিসির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্যও পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নিয়মিত ডব্লিউটিসিতে অংশ নেওয়া দলগুলোর একটি বাংলাদেশ। নতুন কাঠামো চালু হলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। তবে দল বাড়লে সূচি, প্রতিপক্ষ এবং পয়েন্টের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ১২ দলের ডব্লিউটিসি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনের উচ্চ ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো দলের জন্য দীর্ঘ টেস্ট সূচি সামলানো সহজ হবে না।

গ্রিনবার্গের মতে, টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনের খরচ শুধু ম্যাচ পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি দলকে টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী করে তুলতে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণেও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত করা না গেলে নিয়মিত টেস্ট আয়োজন অনেক দেশের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই আর্থিক বাস্তবতার প্রভাব পড়তে পারে টেস্ট সিরিজের ধরনেও। ১২ দলের ডব্লিউটিসি চালু হলে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মতো দলকে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে ডব্লিউটিসিতে অংশ নেওয়া দলগুলোর বেশির ভাগ সিরিজেই একাধিক টেস্ট থাকে।

গ্রিনবার্গ আরও সতর্ক করেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে ভবিষ্যতে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশ নিজেদের মাঠে নিয়মিত টেস্ট আয়োজনের সক্ষমতা হারাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের দেশে কম এবং বিদেশের মাটিতে বেশি টেস্ট খেলার বাস্তবতাও তৈরি হতে পারে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ