Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 05:26 am

হৃদযন্ত্র বিকলে জরুরি লাইফ সেভিং পদ্ধতি: কী ভাবে কাজ করে সিপিআর

image

জাতীয় অর্থনীতি স্বাস্থ্য ডেস্ক: হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করা প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতির নাম কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর। সম্প্রতি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পটেকর। পর্যটন কেন্দ্র গোয়ায় নিজের বাসভবনে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে টানা ৪৫ মিনিট ধরে একনাগাড়ে সিপিআর প্রয়োগ করা হলেও শেষপর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে। এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে জীবন রক্ষাকারী এই পদ্ধতিটি।

কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর মূলত কৃত্রিমভাবে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন প্রবাহ বজায় রাখার একটি বিশেষ পদ্ধতি। জরুরি মুহূর্তে কোনো ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে এবং স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে এটি প্রয়োগ করতে হয়। বুকের ঠিক মাঝখানে পর পর নির্দিষ্ট গতিতে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য প্রধান অঙ্গগুলোতে কৃত্রিম উপায়ে রক্তের প্রবাহ বজায় রাখা হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, সিপিআর নিজে থেকে হৃদযন্ত্রকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত বা চালু করতে পারে না। তবে এটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শরীরে রক্ত সংবহন সক্রিয় রেখে মূল্যবান খানিকটা সময় পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। হৃদযন্ত্র অচল হওয়ার পর মিনিট চারেকের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। দ্রুত সিপিআর শুরু করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে ব্যক্তি বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

সিপিআর প্রধানত দুটি ধাপে কাজ করে থাকে:

১. চেস্ট কমপ্রেশন বা বুকে চাপ দেওয়া: আক্রান্ত ব্যক্তির বুকের ঠিক মাঝখানে এক হাতের তালুর পেছনের অংশ রেখে তার ওপর অন্য হাত চেপে হাত দুটো সোজা রেখে সজোরে ও দ্রুত গতিতে চাপ দিতে হয়। এতে সংকুচিত হয়ে কৃত্রিমভাবে রক্তের পাম্প তৈরি হয়। 

২. রেস্কিউ ব্রিদিং বা মুখে শ্বাস দেওয়া: রোগী যদি নিজে শ্বাস নিতে না পারেন, তবে তার মুখে মুখ রেখে সজোরে ফুসফুসে বাতাস পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে রক্তের সাথে শরীরের কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ হতে পারে।

সিপিআর প্রয়োগের নির্দিষ্ট কোনো কঠোর সময়সীমা নেই। পরিস্থিতিভেদে ১০, ২০ এমনকি ৪৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় ধরে তা চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত রোগী নিজে শ্বাস নেওয়া শুরু করছেন না, কিংবা জরুরি মেডিকেল টিম এসে দায়িত্ব না নিচ্ছে- ততক্ষণ একটানা এটি চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক।

তবে ৪৫ মিনিট বা দীর্ঘ সময় সিপিআর দেওয়ার পরও সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয় না কেন- এই প্রশ্নে চিকিৎসকরা জানান, সিপিআর কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়। হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার মূল কারণ, আক্রান্তের বয়স ও সার্বিক শারীরিক অবস্থা, কত দ্রুত সিপিআর শুরু করা হয়েছিল এবং সময়মতো বৈদ্যুতিক শক (ডিফিব্রিলেশন) দেওয়া সম্ভব হয়েছিল কি না- এসব বিষয়ের ওপরই চূড়ান্ত জীবন রক্ষা নির্ভর করে। তা সত্ত্বেও জরুরি পরিস্থিতিতে অহেতুক ভয় না পেয়ে দ্রুত সিপিআর শুরু করা যেকোনো জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত কার্যকারী ভুমিকা রাখতে পারে।