Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 09:19 am

মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ওই কর্মকর্তা জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনার কথা বলছেন।

হেগসেথ জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থানও তার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’।

হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’

এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সচিবকে দেওয়া হয়েছে।

নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।

হামলার পর হাসান দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি