Print Date & Time : 22 October 2026 Thursday 04:43 am

তবে কী এক দফার দিকে এগোচ্ছে ভারতের আন্দোলন?

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিদায়ের কথাও বলছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। এতে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। আন্দোলনকারী, শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড ও মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিকবার তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা নির্ভুল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারাও এতে সমর্থন জানিয়েছেন।

রাহুল গান্ধী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিদায়ের পর মোদী সরকারেরও বিদায় হবে। তবে বিরোধী জোটের সব দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করা হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ভারতের আন্দোলন কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করছে জনসমর্থন, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

জা.অর্থনীতি/এসআই