Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 05:37 am

৯টা থেকে ৫টা চাকরি বাস্তবে কেন ১২ ঘণ্টা হয়?

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

কাগজে-কলমে অফিস ৮ ঘণ্টার, কিন্তু বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা! সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলেও বেসরকারিতে কেন ১২ ঘণ্টার খাটুনি? অতিরিক্ত এই শ্রমের হিসাব কি সত্যিই কোথাও থাকে?

সকাল থেকে শুরু হওয়া কাজের চাপ, মিটিং আর ডেডলাইনের ভিড়ে ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে যায় সন্ধ্যা। তবুও ডেস্ক ছাড়ার সুযোগ মিলছে না। রাত ৮টা বা ৯টায় অফিস থেকে বের হচ্ছেন একজন বেসরকারি কর্মী।

২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বেড়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি খাতের তুলনা এখন আরও বেশি দৃশ্যমান।

যদিও ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাধারণ অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির কথা বলা হয়েছে, তবে শিল্প-কারখানা ও বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুসরণ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা দিনে ৮ ঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য ১০৮ ধারা অনুযায়ী দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম ভাতার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিদিনের এই অতিরিক্ত সময় কি অফিসের খাতায় উঠছে? ওভারটাইমের পাওনা টাকা কি কর্মীর হাতে পৌঁছাচ্ছে?

আজকের ডিজিটাল যুগে বায়োমেট্রিক বা অ্যাটেনডেন্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীর প্রবেশ ও প্রস্থানের তথ্য স্বয়ংসক্রিয়ভাবে রাখা সম্ভব। ওভারটাইমের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মীও তার সঠিক কাজের দাবি জানাতে পারবেন।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) শ্রম পরিবেশ তদারকি করলেও শুধু কাগজে আইন রেখে লাভ নেই, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি বাড়াতে হবে।

একজন বেসরকারি কর্মী যখন প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩-৪ ঘণ্টা অফিসে থাকেন, তখন তার পারিবারিক সময়, বিশ্রাম এবং মানসিক সুস্থতা নষ্ট হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনে তার কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

সব খাতের ধরন এক নয়, তাই নির্দিষ্ট সময় চাপিয়ে না দিয়ে মূল সমাধান হতে পারে-যত ঘণ্টা কাজ করানো হবে, তার সঠিক ডিজিটাল হিসাব রাখা এবং আইনি পাওনা নিশ্চিত করা।

নতুন পে-স্কেল সরকারি খাতের আয় কাঠামো বদলে দিয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন-বেসরকারি কর্মীদের সময়েরও কি ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে? অতিরিক্ত শ্রমের হিসাব তাই শুধু অফিসের ঘড়িতে নয়, কর্মীর ন্যায্য পাওনাতেও থাকতে হবে।

বেসরকারিতে কেন অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক মেলে না?

বাংলাদেশ শ্রম আইনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম ভাতার বিধান রয়েছে। অথচ বাস্তবে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নিলেও মিলছে না সঠিক পারিশ্রমিক। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সের মাধ্যমে কাজের প্রতিটি ঘণ্টার স্বয়ংক্রিয় হিসাব রাখা। আইন কাগজে নয়, প্রযুক্তিতে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের সময়ের মূল্য দেবে কে

অফিস শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা। অতিরিক্ত কাজের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবার, সন্তান ও নিজের ব্যক্তিগত সময়। সরকারি কর্মীদের বেতন ও সুবিধা বাড়লেও বেসরকারি কর্মীরা থেকে যাচ্ছেন অতিরিক্ত শ্রমের ঘানি টেনে। শুধু বেতন নয়, বেসরকারি কর্মীদের এই অতিরিক্ত সময়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা কি জরুরি নয়?

—জা. অর্থনীতি/এলএটি