Print Date & Time : 21 October 2026 Wednesday 02:01 pm

নীলফামারীতে রেলের জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে: রেলমন্ত্রী

image

নীলফামারী প্রতিনিধি: রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এসব জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বিষয়টি নিয়ে আজকের সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে রেলের প্রয়োজনে, পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এসব জমি ব্যবহার করতে চাই। জমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। রেলওয়ের যেসব জমি দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন এনে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ খাতের পরিসর আরও বাড়ানো দরকার। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। রেলওয়ের দুটি কারখানাকে কীভাবে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা দেখতে সৈয়দপুরে এসেছেন। পরিদর্শনে কারখানার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনেছেন। কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরাসরি দেখেছেন এবং সেগুলোর মানও পরীক্ষা করেছেন।

কারখানায় কোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু পুরোনো মেশিন রয়েছে, যেগুলো মানসম্পন্ন। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেলওয়ের পক্ষে হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় এই কারখানা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা গড়ে ওঠে। তখন যে প্রয়োজনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রয়োজন এখনো রয়েছে, বরং বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কারখানাটির উন্নয়ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোচ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ এই কারখানায় তৈরি করা সম্ভব। একসময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের পার্টস তৈরি হতো। এখন তা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলো আমদানি করতে হচ্ছে। কারখানাটিতে আরও বেশি যন্ত্রাংশ তৈরির সুযোগ রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে