Print Date & Time : 22 October 2026 Thursday 08:42 am

সিলেটে জমজমাট পূজার বাজার

image

শফিক আহমদ শফি, সিলেট: সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সিলেটে জমে উঠেছে দুর্গাপূজার কেনাকাটা। উৎসবের আমেজে নগরের বিপণিবিতান ও পোশাকের দোকানগুলোয় বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের পোশাক কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকছে কেনাকাটা।

আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, কেনাকাটার ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।

নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, জেলরোড, বারুতখানা, লামাবাজার ও মহাজনপট্টি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, বিভিন্ন বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, মেয়েদের শাড়ি ও থ্রি-পিসের পাশাপাশি শিশুদের পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশ। ক্রেতা টানতে অনেক দোকানে দেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

ব্যবসায়ীরা জানান, মেয়েদের থ্রি-পিস ও শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিছু দামি শাড়ির মূল্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ছেলেদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। এছাড়া জুতা, গয়না, প্রসাধনসামগ্রী ও থান কাপড়ের চাহিদাও রয়েছে।

পূজার শপিং নিয়ে সিলেট নগরীর তালতলা এলাকার মৌসুমী চক্রবর্তী বলেন, পূজায় নতুন পোশাক পরার আনন্দটাই আলাদা। প্রতিবছরই নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক কেনার চেষ্টা করি। আমার সন্তানদের পোশাক এবারও কেনাকাটার তালিকায় শার্ট-প্যান্ট, কামিজ ও আমার পরিবারের সবার জন্য পূজার পোশাক কেনাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। বিশেষ করে আমার শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য ও আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবার জন্যই কাপড় কেনাকাটা করেছি।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাক থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেশি। বাচ্চাদের জন্য প্যান্ট, শার্ট ও জুতা কিনেছি। এগুলোর দামও বেশি মনে হলো।

নয়াসড়ক এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা দিয়া রায় বলেন, দুটি আনস্টিচ থ্রি-পিস কিনেছি। দর্জির কাছে জামা তৈরির জন্য দিয়েছি। আজ দুই বান্ধবীকে নিয়ে এসেছি একই রঙের পোশাক কিনতে। নবমীর দিন একই রঙের পোশাক পরে ৩ জন মিলে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরব।

দোকানগুলোয় ছাড় থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার কিছু পোশাক কম দামে কেনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জিন্দাবাজার মিলেনিয়াম শপিং সিটির ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন বলেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার পূজার বাজার কেমন হবে, তা নিয়ে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা ছিল। সে কারণে অনেক ব্যবসায়ী সতর্কভাবে নতুন পোশাক তুলেছিলেন। তবে এখন ক্রেতাদের উপস্থিতি ভালো। পূজা যত ঘনিয়ে আসছে, বিক্রিও তত বাড়ছে।

সিলেটের নগরীর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরাসরি দোকানে কেনাকাটার পাশাপাশি অনলাইনেও পোশাক কিনছেন অনেকে। তবে শেষ মুহূর্তে শপিং মলগুলোতে কিছুটা ছাড় আছে।

হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি নিয়াজ মো. আজিজুল করিম বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে কেনাকাটা তত বেশি জমে উঠছে। বিগত সময়ের তুলনায় এবছর বেচা-বিক্রি একটু বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

পূজায় নিরাপত্তা বিষয়ে সিলেটের ড. চৌধুরী যাবের সাদেক বলেন,‌ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি মণ্ডপে সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশসহ সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তাছাড়া কোনো ঝামেলা ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেন ব্যবসা করতে পারেন ও কাপড় কিনতে আসা ক্রেতারা শপিং করে বাড়িতে ফিরতে পারেন সে জন্য আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার সিলেট জেলা ও মহানগরে সর্বমোট ৬৬৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে সিলেট মহানগর এলাকার ৬টি থানায় সার্বজনীন ১৪৬টি ও পারিবারিক ১৬টিসহ মোট ১৬২টি এবং বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন ও পারিবারিক মিলিয়ে ৫০১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে